খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় ভরত চন্দ্র রায় (৪৮) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার হাত-পা বাঁধা ও মাথা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ার) সকালে পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী রেলপথে হলদিবাড়ী রেলগেট এলাকায় রেললাইনের পাশে লাশটি পড়ে ছিল বলে এ তথ্য জানান পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ওসি ফখরুল ইসলাম।
নিহত ভরত চন্দ্র রায় চন্ডিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি চন্ডিপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী কুমার পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, তাকে হত্যা করে অথবা হাত বেঁধে রেললাইনে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে ঢাকা থেকে পার্বতীপুরগামী কোনো এক ট্রেনে দেহ থেকে তার মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় দিনাজপুর সিআইডির এএসপি ফারুক আহম্মেদ, এএসপি সার্কেল জিন্নাহ আল মামুন, ডিবির ওসি সোহেল রানা, রেলওয়ে থানার ওসি ফকরুল ইসলাম ও মডেল থানার ওসি আব্দুস সালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিহতের ছোট ছেলে রিপন চন্দ্র গণমাধ্যমকে বলেন, বাবা ভরত চন্দ্র রায় রেলওয়েতে চুক্তিভিত্তিক চাকরি করতেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যার পর থেকে তার ফোন বন্ধ পাই আমরা। বাবা সারারাত বাড়িতে না ফেরায় সকালে খুঁজতে এসে জানতে পারি বাবাকে কে বা কারা রশি দিয়ে হাত বেঁধে হত্যা করে রেললাইনে ফেলে রেখে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাবার দেড় লাখ টাকা বকেয়া বেতন পাওয়ার কথা ছিল সোমবার। ওই টাকা দিয়ে আজ মঙ্গলবার চাচাতো বোনের বিয়ের জন্য মোটরসাইকেল কিনতে যাওয়ার কথা ছিল।’
ভরত চন্দ্রের স্ত্রী ভারতী বানী বলেন, আমার স্বামীর কোনো শত্রু আছে বলে আমার জানা নেই। কী কারণে তাকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে তা বুঝতে পারছি না। আমার প্রয়াত দেবরের মেয়ে সোনামনির বিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার। আজ মঙ্গলবার মোটরসাইকেল কিনতে যাওয়ার কথা। এখন সব চুরমার হয়ে গেল।’
রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকরুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্ততি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য পুলিশ কাজ করছে।’
খবরওয়ালা/আরডি