খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করার অধিকার আছে কি না তা একটি জরুরি প্রশ্ন।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, কিছু ইসলামী দল কোরআন‑সুন্নাহভিত্তিক শরিয়া আইন কায়েমের কথা বলছে। কেউ কেউ খেলাফত কায়েমের কথাও বলেন। মানে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কাঠামোকে তারা মেনে নেন না।
যদি কোনো দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসে নির্বাচনী ব্যবস্থা বাতিল করে একদলীয় শাসন কায়েম করে, তাহলে সেই দল কি জনগণের পক্ষ থেকে ক্ষমতা দখল করার ন্যায্যতা রাখে? উত্তর হবে না; কারণ নির্বাচনীব্যবস্থা নষ্ট করে ফেলা হলে জনগণের ভবিষ্যতে আর কোনো রকম সমন্বয় থাকবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইউরোপে ফ্যাসিস্ট শাসন ও আধুনিক ইতিহাসের কিছু প্রাসঙ্গিক নজির তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, যে দলগুলো শরিয়া প্রতিষ্ঠার কথা বলছে, তাদের স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে তারা কোন শরিয়া কায়েম করবেন, তা কিভাবে সংবিধান ও মানবাধিকার বিবেচনার সঙ্গে ফিট করে এবং নারীর অধিকার, দণ্ডবিধি ও অন্যান্য মানবাধিকারগত খুঁটিনাটি সম্পর্কে তাদের অবস্থান কী। তিনি তুলে ধরেন, অনেক শরিয়া কার্যকর রাষ্ট্রে নিরপেক্ষ, সর্বজনীন ভোটাধিকার ও মানবাধিকার‑সম্মত নির্বাচনব্যবস্থা নেই।
যা বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ফলে এসব দল ভোট চাইতে হলে জনগণের কাছে তাদের আইনগত ও সাংবিধানিক নীতিগুলো পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কিছু ইসলামী দলের মধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে জোট গঠনের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দলের মধ্যে ঐকমত্য নেই। কিছু দল জামায়াতকে ইসলামের অনুকরণীয় মনে করে না, আবার কেউ কাউকে শত্রু হিসেবেও দেখতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের নেতৃত্বের সঙ্গে টক শোর আলোচনায় তাদের কিছু দাবি শোনা গেছে।
যেমন সুদভিত্তিক ব্যবস্থা বিলোপের মতো অর্থনৈতিক পরিবর্তন। কিন্তু এসব দাবি বাস্তবায়নযোগ্য কি না বা তা কেমন আইনগত ও প্রশাসনিক কাঠামো দাবি করবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়গুলো নিয়ে দ্রুত ও গভীর আলোচনা হওয়া জরুরি। কারণ জনগণকে জানতে হবে যে তারা দেশের ভবিষ্যৎ কিভাবে দেখতে চান এবং কোন দলকে ভোট দিলে সেই দলের প্রস্তাবিত রূপরেখা কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
খবরওয়ালা/এফএস