খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে মাঘ ১৪৩২ | ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের প্রথম দিকে ও রাতের সময়ে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশের সিসমোলজি পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রতিটি ভূমিকম্প ‘মৃদু’ মাত্রার হলেও এর বিস্তৃতি বিস্তীর্ণ।
রাতের ভূমিকম্প:
রাত সাড়ে ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে এক ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রাথমিকভাবে এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারে শনাক্ত করা হয়েছে। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের একাধিক জেলায় কেঁপে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের প্রাথমিক গভীরতা ও মাত্রা এখনো নিশ্চিত হয়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ভোরের ভূমিকম্প:
এর আগে ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.১, যা ‘মৃদু’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। এ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক গভীরতা ছিল ১৫০ কিলোমিটার। এর ফলে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোরসহ আশপাশের এলাকা সাময়িকভাবে কেঁপে ওঠে।
নিম্নে দু’টি ভূমিকম্পের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:
| সময় (৩ ফেব্রুয়ারি) | উৎপত্তিস্থল | মাত্রা (রিখটার) | গভীরতা | প্রভাবিত অঞ্চল |
|---|---|---|---|---|
| ০৪:৩৬ ভোর | সাতক্ষীরার কলারোয়া | ৪.১ | ১৫০ কিমি | সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, আশপাশের এলাকা |
| ২১:৪০ রাত | মিয়ানমার | অজানা | অজানা | ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, অন্যান্য জেলা |
ভূমিকম্পের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মৃদু ভূমিকম্পের পর কিছু সময়ের মধ্যে অনুরূপ কম্পন পুনরায় অনুভূত হতে পারে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রাপ্তি হলে তা সরকারি পর্যায়ে জানানো হবে। জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ কম্পনের ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, যেসব জেলা ভূমিকম্প প্রবণ, সেখানে ভবন ও স্থাপনার মান অনুসরণ করে নিরাপদ স্থাপন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।