খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে মাঘ ১৪৩০ | ২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | 1148 Dhu al-Hijjah 5

নিজ সংবাদ ॥ অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করানোর প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে কলেজ অধ্যক্ষসহ জালিয়াতচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পাস করানোর নিশ্চয়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্র“য়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে এ পরীক্ষায় পাস করার নিশ্চয়তার প্রলোভনের অভিযোগে জয়পুরহাট জেলা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতেও পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পাঁচবিবি উচাই কলেজের অধ্যক্ষ ও একই উপজেলার পশ্চিম বালিঘাটা গ্রামের রুস্তম আলী (৫৩), বগুড়া সদর থানার গোকুল গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে ইশান ইমতিয়াজ ওরফে হৃদয় (৩০) ও কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার হরিণগাছী গ্রামের আরজ আলীর ছেলে রোকনুজ্জামান ওরফে রোকন (২৯)। জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, জয়পুরহাট জেলাসহ দেশের তিনটি বিভাগে আগামী ২ ফেব্র“য়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে একটি চক্র জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানা এলাকায় জালিয়াতি করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করে। তারা ২৫ জন প্রার্থীদের টার্গেট করে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা চুক্তি করেছেন। প্রার্থীরা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তাদের ট্রেনিংও দেওয়া হয়েছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাঁচবিবি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, হৃদয় ও রোকন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষে প্রতারণার কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাদের কাছ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র, চেকবহি, এটিএম কার্ড, বিভিন্ন প্রকারের ডিভাইস, ৬টি মোবাইল ফোন, মোবাইল সিম, এন্টিনা, এয়ার পট, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত লিখিত পরীক্ষার আগে জালিয়াতচক্রের এ ধরনের প্রলোভনে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কোথাও এমন কোনো তৎপরতার সন্ধান পাওয়া গেলে নিকটস্থ থানায় অভিযোগের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রেজওয়ান হায়াত বলেন, প্রথম পর্বের পরীক্ষার সময়ও এ ধরনের চক্র সক্রিয় ছিল। আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সজাগ ও সতর্ক ভূমিকার কারণে তাদের অপপ্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকানোর জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।