খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০২৫
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এগিয়ে নিতে কয়েক দফা অশুল্ক বাধা আরোপের পরও বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠির কোনো সাড়া দেয়নি দেশটির সরকার।
এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পাটপণ্য আমদানিতে ভারতের নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমরা ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনো জবাব পাইনি। বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে মোকাবিলা করছি, তবে ভারতের অংশগ্রহণও জরুরি।”
তিনি মনে করেন, পাটপণ্যে এই বিধিনিষেধ রপ্তানিতে বড় প্রভাব ফেলবে না। তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
সোমবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালকের কার্যালয় (ডিজিএফটি) এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, বাংলাদেশ থেকে চার ধরনের পাটপণ্য স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব পণ্য কেবল মুম্বাইয়ের নভসেবা বন্দর দিয়ে আমদানি করা যাবে।
এর আগে ১৭ মে ভারত স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাব, সুতা, ফল ও কোমল পানীয়সহ একাধিক পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ দেয়। ৯ এপ্রিল কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সুবিধাও প্রত্যাহার করে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ করে।
গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, ভারতের সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
তার ভাষায় “বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ৯৯ শতাংশের বেশি স্থলপথে ভারতে যায়। নতুন নিষেধাজ্ঞা খরচ বাড়াবে ও লজিস্টিক জটিলতা তৈরি করবে।”
তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই এখন একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও অশুল্ক বাধার পথে হাঁটছে, যা শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতির সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
খবরওয়ালা/আশ