খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দুটি—নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কবে হবে এবং কে শপথ পড়াবেন? নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে; অর্থাৎ ৩০০ আসনের সংসদে ১৫১টির বেশি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এখন কেবল সময় ও আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা।
সাধারণভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠিত হয়—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও সংবিধান এ বিষয়ে নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ শপথের সময় গণনার সূচনা নয়; বরং সরকারি গেজেট প্রকাশই মূল নির্ধারক।
এক্ষেত্রে গেজেট প্রকাশে এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সম্প্রতি ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, শপথ ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হতে পারে এবং ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। সবকিছু অনুকূলে থাকলে নির্বাচন-পরবর্তী ছয় দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদ ও স্পিকারের অনুপস্থিতি প্রশ্ন তুলেছে—এবার শপথ পড়াবেন কে?
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ এ বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। সেখানে বলা হয়েছে—
রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠের জন্য একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি মনোনীত করতে পারেন।
যদি মনোনীত ব্যক্তি নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে শপথ পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন, যেন তিনিই এ উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—শপথ পড়াতে পারেন। অন্যথায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব নেবেন। তবে দ্বিতীয় বিকল্পে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতা প্রথমে সংসদ নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবেন এবং রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে সরকার গঠন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা হয়েছে—যে ক্ষেত্রে শপথ গ্রহণ আবশ্যক, শপথের অব্যবহিত পরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে বিবেচিত হবেন। এর মধ্য দিয়েই পূর্ববর্তী সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।
| ধাপ | দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান | সময়সীমা |
|---|---|---|
| ফলাফল গেজেট প্রকাশ | নির্বাচন কমিশন | বেসরকারি ফলের পর |
| এমপিদের শপথ | রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি / প্রধান নির্বাচন কমিশনার | গেজেটের ৩ দিনের মধ্যে |
| প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ | রাষ্ট্রপতি | সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতের পর |
| মন্ত্রিসভার শপথ | রাষ্ট্রপতি | প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের পরপর |
সব মিলিয়ে, সংবিধান স্পষ্ট ও সুসংহত কাঠামো নির্ধারণ করেছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যাই হোক, সাংবিধানিক বিধান অনুসরণেই নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হবে—এটাই এখন প্রত্যাশা।