খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সংক্রামক ব্যাধি হাম ও রুবেলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল রবিবার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) থেকে শুরু হচ্ছে এক বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিকভাবে দেশের ১৮টি জেলার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, নির্ধারিত উপজেলাগুলোতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই টিকা প্রদান করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং আক্রান্তের হার বিশ্লেষণ করে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই হচ্ছে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। এই বিশাল ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “শিশুর আগে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া থাকুক বা না থাকুক, এই নির্দিষ্ট বয়সসীমার সকল শিশুকে পুনরায় টিকা নিতে হবে।” নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি স্থানীয় স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার এবং ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রেও প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে যে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা নিচে প্রদান করা হলো:
| বিভাগ | জেলা | উপজেলা সমূহ |
| ঢাকা | ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর | নবাবগঞ্জ, লৌহজং, সদর (মুন্সীগঞ্জ), শ্রীনগর, সদর (গাজীপুর), সদর (মাদারীপুর), জাজিরা |
| রাজশাহী | রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ | গোদাগাড়ী, ঈশ্বরদী, সদর (পাবনা), আটঘরিয়া, বেড়া, পোরশা, সদর (নাটোর), সদর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), শিবগঞ্জ, ভোলাহাট |
| বরিশাল | বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা, ভোলা | মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, নলছিটি, সদর (বরগুনা) |
| চট্টগ্রাম | চাঁদপুর, কক্সবাজার | হাইমচর, সদর (চাঁদপুর), মহেশখালী, রামু |
| ময়মনসিংহ | ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা | ত্রিশাল, সদর (ময়মনসিংহ), ফুলপুর, আটপাড়া |
| খুলনা | যশোর | সদর (যশোর) |
টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি শিশুদের জন্য আরও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে:
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল: আক্রান্ত বা জ্বরগ্রস্ত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে টিকা প্রদানের পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল টিকাই যথেষ্ট।
অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়ম: যেসব শিশু বর্তমানে তীব্র জ্বরে ভুগছে বা অন্য কোনো গুরুতর অসুস্থতায় রয়েছে, তাদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সুস্থ হওয়ার পর তারা এই ডোজ গ্রহণ করতে পারবে।
কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উদ্বোধনী দিনে পাঁচটি প্রধান কেন্দ্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সশরীরে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করবেন। বাকি উপজেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনরা সরাসরি সমন্বয় করবেন। ২০২৫ সালে টিকাদানের হার কেন হ্রাস পেয়েছিল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অতীতের ত্রুটি নিয়ে তদন্ত করার চেয়ে বর্তমান শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এই কার্যক্রমকে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলায় সম্প্রসারণ করে নিয়মিত জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এস এম জিয়াউদ্দিন, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিভাবকগণকে নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।