খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযানে প্রায় ২৭ লাখ টাকার অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত চালানে মোট ১ হাজার ৩৪৫ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়, যা দুটি পৃথক ঘটনায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক আগমন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর, শুল্ক গোয়েন্দা ইউনিট এবং বিমানবন্দর শুল্ক বিভাগ।
প্রথম ঘটনায় আন্তর্জাতিক আগমন হলের লাগেজ বেল্ট এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। পরে দ্বিতীয় ঘটনায় মাস্কাট থেকে আসা একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে আরও ২৮০ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়। ওই যাত্রী চট্টগ্রামের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলে জানা গেছে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত পণ্যসমূহ চট্টগ্রাম শুল্ক গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ওই যাত্রীকে মৌখিক সতর্কতা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
| ঘটনাস্থল | জব্দকৃত পণ্যের ধরন | পরিমাণ | আনুমানিক মূল্য |
|---|---|---|---|
| লাগেজ বেল্ট এলাকা | সিগারেট | ১,০৬৫ কার্টন | প্রায় ২১ লাখ টাকা |
| যাত্রীর ব্যাগেজ | সিগারেট | ২৮০ কার্টন | প্রায় ৬ লাখ টাকা |
| মোট | — | ১,৩৪৫ কার্টন | প্রায় ২৭ লাখ টাকা |
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক ফাঁকি ও নিষিদ্ধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর মাধ্যমে অবৈধ সিগারেট পাচারের প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। এ কারণে লাগেজ বেল্ট ও যাত্রী ব্যাগেজ তল্লাশিতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
শুল্ক বিভাগ মনে করছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে রাজস্ব ফাঁকি রোধের পাশাপাশি বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধ পণ্যের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।