খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৮ই জুন ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ৫২ ০০০ কোটি টাকার মতো ‘নতুন টাকা ছাপিয়ে’ ঋণ দিয়েছে ১২টি দুর্বল ব্যাংকে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (AQR)-এর ফলাফলে চিহ্নিত হয়েছে। ছয় মাস আগে ৬টি দুর্বল ব্যাংকে ছাপানো টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছিল ২২ ৫০০ কোটি টাকা। চলতি বছর আরও নতুন পর্বে যোগ হয়েছে, মোট এসে দাঁড়িয়েছে ৫২ ৫০০ কোটি টাকা। এই টাকা সরাসরি ছাপানো নোটের মাধ্যমে ছয়টি দুর্বল ব্যাংকের মধ্যে তারল্য সমস্যার সমাধায় প্রদান করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যার পরিমাণ ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), ন্যাশনাল ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। এছাড়া তালিকায় আছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, এবি ব্যাংক, বিসিবিএল, আইসিবি, বেসিক ও পদ্মা ব্যাংক।
তবে ব্যাংক নির্বাহীরা বলছেন, এই সহায়তায় সাময়িক অস্থিরতা কাটালেও পুরোপুরি সমাধান হয়নি সমস্যার।
যদিও গভর্নর একাধিকবার বলেছিলেন, টাকা ছাপিয়ে আর কোনো ব্যাংককে ঋণ নয়। তবে বাস্তবে সেই নীতির বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুক্তি- অবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় এ সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আমরা ঋণ দিচ্ছি যেন ক্ষুদ্র আমানতকারীরা চেকের বিপরীতে টাকা তুলতে পারেন। চাইছি ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়াক।
এই প্রেক্ষাপটে, দুর্বল ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম ধাপে হাফ ডজনের মতো প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এতে অসম্মতি জানিয়েছে এই তালিকা থাকা এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেন, “প্রয়োজনমতো টাকা ছাপানো হয়েছে যাতে আমানতকারীরা হেনস্থা না হয় ও বাজারে স্থিরতা বজায় থাকে” । তবে এটি ইনফ্লেশনের চাপ বাড়াতে পারে বলে অর্থ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
খবরওয়ালা/ এমএজেড