খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ মিশনে অংশ নেওয়ার সুযোগের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানী সারাহ করিম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যিক মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের জন্য তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাকাশচারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন দেশের প্রথম নারী মহাকাশচারী, এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ মিশনে যোগ দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি।
মহাকাশচারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার খবরটি সারাহ করিম নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি বিনীত এবং সম্মানিত যে টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের মহাকাশচারী প্রার্থী হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম বাংলাদেশি হব।”
শৈশবের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “নয় বছরের ছোট্ট মেয়ে অবস্থায় বাবার সঙ্গে টেলিভিশনে সুনিতা উইলিয়ামসকে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসতে দেখেছিলাম। সেই মুহূর্তের স্বপ্নই আজ আমাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
সারাহ করিম জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকেই তিনি টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের বিশেষায়িত মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ শুরু করবেন। এর লক্ষ্য ২০২৯ বা ২০৩০ সালে ৩০০ কিলোমিটার উচ্চতায় টাইটানস জেনেসিস মহাকাশযানে করে কক্ষপথে যাত্রা করা। মিশনটির নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণার অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যক্তি, নাসার সাবেক প্রধান মহাকাশচারী বিল ম্যাকআর্থার।
নিজের অর্জনকে সারাহ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। তিনি লিখেছেন, “এই মুহূর্তটি শুধু আমার জন্য নয়; এটি প্রতিটি বাংলাদেশি মেয়ের স্বপ্নের প্রতীক। যারা নীরবে বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখে, যারা আকাশের দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হয়—তাদের সবার জন্য এই অর্জন।”
পরিবার ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তার স্বামী, পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের প্রত্যেকের সমর্থন ছাড়া এই পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হতো না। বিশেষভাবে তিনি ধন্যবাদ জানান টাইটানসের প্রতিষ্ঠাতা নীল এস. লাচম্যানকে, যিনি তার সম্ভাবনা ও সাহসকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা বহনের সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান। এটি কেবল শুরু—আরও বড় যাত্রা সামনে অপেক্ষা করছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সারাহ করিমের এই অগ্রযাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মহাকাশ–সম্পৃক্ত আগ্রহ জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মহাকাশ সংস্থা | টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ |
| নির্বাচনের সময়কাল | ২০২৬–২০৩০ |
| সম্ভাব্য মিশন | টাইটানস জেনেসিস কক্ষপথ অভিযান |
| নেতৃত্ব দেবেন | নাসার সাবেক প্রধান মহাকাশচারী বিল ম্যাকআর্থার |
| সম্ভাব্য যাত্রা | ২০২৯ বা ২০৩০ সাল |
| উচ্চতা | পৃথিবীর ৩০০ কিমি উপরে |
| সম্ভাব্য পরিচয় | দেশের প্রথম নারী মহাকাশচারী এবং প্রথম বাংলাদেশি মহাকাশযাত্রী |
| সারাহ করিমের অনুপ্রেরণা | সুনিতা উইলিয়ামসকে মহাকাশ থেকে ফেরার দৃশ্য দেখা |