খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেও মাঠের পারফরম্যান্সে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা। বড় প্রত্যাশা নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে এসে তিনি এখন রান-খরায় বিধ্বস্ত। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত খেলা তিন ম্যাচের সবকটিতেই শূন্য রানে (ডাক) আউট হয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন এই তরুণ তুর্কি। বিশ্বসেরা এই ব্যাটসম্যানের এমন টানা ব্যর্থতা নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। পাকিস্তানের সাবেক গতি তারকা মোহাম্মদ আমির এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অভিষেকের ব্যাটিং কৌশলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাকে পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবের সাথে তুলনা করেছেন।
মোহাম্মদ আমির মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে টিকে থাকতে হলে কেবল ‘স্লগিং’ বা পেশিশক্তির জোড়ে বল সীমানাছাড়া করার মানসিকতা যথেষ্ট নয়। পাকিস্তানের জনপ্রিয় ক্রীড়া শো ‘হার না-মানা হ্যায়’-তে আমির অভিষেকের কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তার মতে, অভিষেক একজন ‘স্লগার’ মাত্র, যার টেকনিক আন্তর্জাতিক মানের বোলারদের মোকাবিলা করার মতো পরিপক্ক নয়।
আমিরের পর্যবেক্ষণে, অভিষেক মূলত ক্রিজের এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকেন এবং বল নিজের পছন্দের ‘জোন’ বা স্লটে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যখন সুইং ও মুভমেন্টের ওপর ভিত্তি করে চলে, তখন এমন একপেশে ব্যাটিং কৌশল কোনোভাবেই কার্যকর হতে পারে না।
অভিষেকের বর্তমান অবস্থার সাথে পাকিস্তানের ওপেনার সাইম আইয়ুবের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একটি মিল খুঁজে পেয়েছেন আমির। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে পিএসএল-এ সাইম যখন আবির্ভূত হয়েছিলেন, তিনিও কেবল নির্দিষ্ট কিছু শট (যেমন: নো-লুক শট) এবং লেগ সাইডের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। নিচে তাদের দুজনের সীমাবদ্ধতার একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | অভিষেক শর্মার সমস্যা | সাইম আইয়ুবের সমস্যা (শুরুর দিকে) |
| ব্যাটিং স্টাইল | কেবল পছন্দের স্লটে বল পেলে হিট করার মানসিকতা। | অতিরিক্ত শৌখিন শট ও লেগ সাইড নির্ভরতা। |
| দুর্বলতা | শরীরের ওপর বা অফ-স্টাম্পের বাইরের বলে বিভ্রান্ত হওয়া। | ফোর্থ বা ফিফথ স্টাম্পের বল মোকাবিলায় সিদ্ধান্তহীনতা। |
| আউটের ধরন | ক্যাচ আউট বা শর্ট পিচ বলে পরাস্ত হওয়া। | উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়ার প্রবণতা। |
| মানসিকতা | সব বলে সজোরে ব্যাট চালানোর চেষ্টা। | পরিস্থিতির চেয়ে শটের শৈল্পিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া। |
মোহাম্মদ আমির সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক বোলাররা কখনই ব্যাটসম্যানের শক্তির জায়গায় বল করবে না। বরং তারা ব্যাটসম্যানকে তার স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে (Comfort Zone) নিয়ে এসে আউট করার চেষ্টা করবে। একজন ওপেনার হিসেবে মাঠের সব দিকে খেলার দক্ষতা (৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটিং) অর্জন করা এখন সময়ের দাবি। অভিষেক যেভাবে সালমান আগা বা নেদারল্যান্ডসের বোলারদের কাছে নির্দিষ্ট লাইন ও লেংথে পরাস্ত হয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে বোলাররা তার দুর্বলতা ধরে ফেলেছেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান ধরে রাখা আর মাঠের খেলায় কার্যকর থাকা ভিন্ন বিষয়। অভিষেক শর্মা যদি দ্রুত তার ব্যাটিংয়ের এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে না পারেন, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ রেসে টিকে থাকা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।