নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস এলাকায় বাস কাউন্টারে দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে একটি চায়ের দোকান ও সড়কে থাকা পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিআরটিসি বাসে যাত্রী ওঠানো ও কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন আলী ফকিরের অনুসারীদের সঙ্গে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সুজন খানের সমর্থকদের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এই ঘটনার জের ধরে দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
বনপাড়া বাইপাসের পাবনা কাউন্টারের সামনে একটি চায়ের দোকানে হোসেন আলী ফকির সহ বেশ কয়েকজন বিএনপি কর্মী অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিপরীত পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের হামলায় চায়ের দোকানে থাকা বিএনপি নেতা-কর্মীরা রক্তাক্ত হন এবং আতঙ্কে আশেপাশের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। হামলাকারীরা চায়ের দোকানটি তছনছ করে এবং বাইরে থাকা ৫টি মোটরসাইকেল পিটিয়ে ভেঙে ফেলে।
সংঘর্ষের পর স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহতদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর—
-
হোসেন আলী ফকির (৫৭), সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, বনপাড়া পৌর বিএনপি
-
মমতাজউদ্দিন শেখ (৫৫), সভাপতি, বনপাড়া পৌর কৃষক দল
-
আকতার হোসেন (৫২), সভাপতি, বনপাড়া পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড
অন্যান্য আহতরা হলেন—
-
আসলাম শেখ (৫০), বিএনপি কর্মী (বনপাড়া পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন)
-
রবিউল ইসলাম মৃধা (৫০), সভাপতি, বনপাড়া পৌর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড
-
নাজমুল (৩৫), যুবদল কর্মী
-
সোহেল (৪৮), যুবদল কর্মী
ঘটনার বিষয়ে বনপাড়া পৌর বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমান জানান, তিনি সাংগঠনিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে খবর পেয়েছেন যে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সুজন খানের নেতৃত্বে হোসেন আলী ও তার লোকজনের ওপর অতর্কিত এই পৈশাচিক হামলা চালানো হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন খান দাবি করেছেন, তিনি বা তার কোনো লোক এই হামলার সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এই অভিযোগ আনা হচ্ছে।
খবর পেয়ে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বনপাড়া বাইপাস ও আশেপাশের এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পৌর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

