খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ২০ দিন বয়সী এক নবজাতক বিক্রি করার অভিযোগে নানিসহ তার বোনকে আটক করেছে পুলিশ। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চকরিয়া থানা পুলিশের এসআই নাসিরের নেতৃত্বে নানিকে নিয়ে তার বোনের বাসায় অভিযান চালানো হয় এবং বোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৭ আগস্ট সকালে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ডুমখালী এলাকায়।
ওইদিন নবজাতকের মা জেসমিন আক্তার পাশের দোকানে যাওয়ার জন্য কন্যা শিশুটিকে নানির কাছে রেখে যান। ফিরে এসে দেখেন শিশু ও নানি উধাও। সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা জেসমিন তিন দিন ধরে খুঁজেও ব্যর্থ হন। পরে নানি বাড়িতে ফিরে এলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে মেয়েকে মারধরেরও চেষ্টা করেন।
জেসমিন আক্তার অভিযোগ করেন, তার মা নুরুন্নাহার, খালা ও খালাতো ভাই মিলে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে শিশুটিকে বিক্রি করেছে। তিনি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাকে ভরণপোষণ দেন না। এর মধ্যেই সন্তানের এমন পরিণতি তার জীবনকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে শিশুটির মা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ নানি নুরুন্নাহারকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নানির বোন ও তার ছেলে নবজাতককে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকায় বিক্রি করেছে।
শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সংসার ভেঙে গেছে, স্বামী আমাকে দেখে না। দুই বছরের এক সন্তান আর নবজাতককে নিয়ে আমি ভিক্ষা করি। আমার কোনো স্বপ্ন ছিল না, শুধু সন্তান দুটোকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার আশা করেছিলাম। কিন্তু আমার মা-ই আমার ২০ দিনের শিশুকে বিক্রি করে দিয়েছে। আমি শুধু আমার সন্তানকে ফেরত চাই।’
চকরিয়া থানা পুলিশের ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘একটি শিশু নানির কাছেও নিরাপদ নয়—এ ঘটনা তারই প্রমাণ। নবজাতক উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। যেখানেই শিশুটিকে রাখা হোক না কেন, আইনের আওতায় এনে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, নানির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারে ইতোমধ্যেই পুলিশি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে শিশুটিকে থানায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
খবরওয়ালা/শরিফ