খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ের জন্য ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কাৎজ তেহরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী এমন একটি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা। তাঁর বক্তব্যে সম্ভাব্য অভিযানের পরিসর ও প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে—এমন ধারণা পাওয়া যায় বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
তেল আবিবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা, যার মধ্যে ছিলেন সর্বোচ্চ সামরিক প্রধান, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কমান্ডাররা। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, সম্ভাব্য সংঘাত পরিস্থিতি এবং প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কাৎজ দাবি করেন, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, কাৎজের বক্তব্য শুধুমাত্র সামরিক প্রস্তুতির বার্তা নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে তারা মনে করেন।
পর্যবেক্ষকরা আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি এবং ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের কঠোর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এসব অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও সংঘাতের আশঙ্কা লক্ষ্য করা গেছে।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় এবং অংশগ্রহণকারীদের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বৈঠকের স্থান | তেল আবিব |
| আলোচনার বিষয় | আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক প্রস্তুতি |
| উপস্থিত প্রধান ব্যক্তি | প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ |
| সামরিক নেতৃত্ব | সর্বোচ্চ সামরিক প্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা |
| গোয়েন্দা সংস্থা | সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আমান-এর প্রধান |
| মূল বার্তা | সম্ভাব্য হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের অপেক্ষা এবং পূর্ণ প্রস্তুতি |
| লক্ষ্য সম্পর্কে বক্তব্য | ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার ইঙ্গিত |
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সামরিক পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা নীতির অংশ হিসেবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
এই পরিস্থিতিতে কাৎজের মন্তব্য আঞ্চলিক কূটনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। সূত্র: মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা