খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গত ৯ মাসে কমপক্ষে ২০টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় কয়েকটি ক্ষেত্রে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জনতা জড়ো করে নৃশংসতা চালানো হয়েছে। কিছু ঘটনায় মব সৃষ্টি করে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে ডাকাত সন্দেহে বিশনন্দী এলাকায় নবী হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ১৮-২০ জনের একটি ডাকাত দল ওই দিন রাত আড়াইটার দিকের পর্যায়ক্রমে কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি শেষে ইলিয়াছ মিয়ার হানা দেয়। এরই মধ্যে বিশনন্দী এলাকার তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনার খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে ডাকাত দলকে ধাওয়া দিয়ে নবী হোসেনকে আটক করে ফেলে। তাদের পিটুনিতে নিহত হন তিনি। নবী হোসেন উচিতপুরা এলাকার রূপ মিয়ার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই বলে পুলিশ জানায়।
এর এক দিন আগে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে বালিয়াপাড়া এলাকায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুরস্কারঘোষিত মাদক কারবারি সোহেল মিয়া ওরফে ফেন্সী সোহেলের (৩৫) হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। এক্ষেত্রেও মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করা হয়।
আড়াইহাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার বিরুদ্ধে অসংখ্য অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার বা পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, এই ধরনের সহিংসতা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি না থাকা বা উপস্থিত থাকলেও মবকে সামলাতে না পারা এবং পরে কাউকে গ্রেপ্তার না করায় সাধারণ মানুষ নিজ হাতে বিচার করতে দ্বিধা করছে না।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবি কাজী আব্দুস সেলিম বলেন, “আড়াইহাজারে ডাকাতি ও মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতা, ভীতি, অগণতান্ত্রিক পরিবেশ ও দুষ্কর আমলাতন্ত্রই গণপিটুনির মূল কারণ।”
আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া কখনো সমাধান হতে পারে না। এতে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি হয় এবং নিরপরাধ মানুষও অন্যায়ের শিকার হতে পারে। অপরাধ করলে শাস্তি দেওয়ার একমাত্র অধিকার রাষ্ট্র ও আদালতের। সাম্প্রতিক গণপিটুনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।’
খবরওয়ালা/এমএজেড