খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
‘এতদিন কেউ আমাকে বলেনি আমি ভারতীয় নই। প্রথম যখন শুনলাম আমি রাষ্ট্রহীন, তখন বিষয়টি মেনে নিতে পারিনি।’ বলছিলেন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বাসিন্দা বাহিসন রবীন্দ্রন।
১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া এই তরুণ পড়াশোনা, চাকরি সবই করেছেন ভারতে। হাতে রয়েছে একাধিক সরকারি পরিচয়পত্র, এমনকি ভারতীয় পাসপোর্টও। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি বড় ধাক্কা খান। হঠাৎ পুলিশ গ্রেপ্তার করে জানায়—তার পাসপোর্ট অবৈধ, কারণ তিনি ভারতীয় নাগরিক নন, বরং একজন ‘রাষ্ট্রহীন’।
১৯৮৭ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, ওই বছরের ১ জুলাইয়ের পর ভারতে জন্মালে অন্তত একজন অভিভাবকের ভারতীয় নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। রবীন্দ্রনের বাবা-মা দুজনেই ১৯৯০ সালে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। ফলে ১৯৯১ সালে ভারতে জন্মালেও তিনি নাগরিকত্বের অধিকার পাননি। ১৯৮৭ সালের আগে জন্ম নিলে সরাসরি নাগরিকত্ব পাওয়া যেত।
রবীন্দ্রন আদালতকে জানান, এতদিন তিনি এ আইন জানতেন না, আর কখনও তার শ্রীলঙ্কান পরিচয় গোপনও করেননি। আইন জানার পর প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেও ততদিনে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। প্রতারণা ও অবৈধভাবে ভারতীয় পাসপোর্ট রাখার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ দিন কারাবাস শেষে জামিনে মুক্ত হন তিনি।
এখন বিষয়টি আদালতে রয়েছে। মাদ্রাজ হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত রবীন্দ্রনের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তামিলনাড়ু সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার শ্রীলঙ্কান শরণার্থী বসবাস করছে। এর মধ্যে অন্তত ২২ হাজার শিশু ১৯৮৭ সালের পর ভারতে জন্মেছে। তাদেরও নাগরিকত্ব নিয়ে একই অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভারত জাতিসংঘের ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন কিংবা ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে স্বাক্ষর না করায় এ পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের সুযোগ দিলেও শ্রীলঙ্কান তামিলদের আওতার বাইরে রেখেছে।
যদিও ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো একজন শ্রীলঙ্কান তামিল নারী, কে. নলিনী ভারতীয় নাগরিকত্ব পান—কারণ তিনি ১৯৮৭ সালের আগে জন্মেছিলেন। এরপর আরও কয়েকজন নাগরিকত্ব পেলেও সংখ্যা এখনও হাতে গোনা।
এখন রায়ের অপেক্ষায় আছেন রবীন্দ্রন। তার সোজাসাপ্টা বক্তব্য, ‘আমি কখনও শ্রীলঙ্কায় ফিরতে চাই না। আমার সবকিছু ভারতের সঙ্গেই যুক্ত।’
খবরওয়ালা/এন