খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় এক ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভ নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির নিচে স্থাপিত বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরিত হলে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার তদন্ত সংস্থা ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি, যারা গুরুতর অপরাধ এবং সহিংস হামলার ঘটনা তদন্ত করে থাকে।
নিহত সারভারভ ছিলেন জেনারেল স্টাফের প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান, যার দায়িত্ব ছিল কৌশলগত ইউনিটগুলোর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি জানিয়েছে, ঘটনাটিকে সরাসরি “হত্যা” হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের সঙ্গে ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। রাশিয়ার ক্রেমলিন বহুবার অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলা হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কো এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনীয় এলাকায় অনেক লক্ষ্যভিত্তিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাগুলোতে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের ওপর বিশেষভাবে আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে।
মস্কোর সাম্প্রতিক গাড়িবোমা হামলা একমাত্র নয়। এর আগে কয়েকজন শীর্ষ পদস্থ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন, যেগুলো নিম্নরূপ:
| সাল/মাস | নিহত ব্যক্তি | পদ/পরিচয় | হামলার ধরন |
|---|---|---|---|
| এপ্রিল ২০২৪ | জেনারেল ইয়ারোস্লাভ মোস্কালিক | জেনারেল স্টাফের উপপ্রধান | গাড়িবোমা বিস্ফোরণ (মস্কোতে) |
| ডিসেম্বর ২০২৪ | ইগর কিরিলভ | রেডিওলজিক্যাল, কেমিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান | ইলেকট্রিক স্কুটার বিস্ফোরণ, দায় স্বীকার করে ইউক্রেনের এসবিইউ |
| এপ্রিল ২০২৩ | ম্যাক্সিম ফোমিন | সামরিক ব্লগার ও প্রো-ক্রেমলিন সক্রিয়কর্মী | সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্যাফেতে ভাস্কর্যের ভেতর বোমা |
| আগস্ট ২০২২ | দারিয়া দুগিনা | জাতীয়তাবাদী তাত্ত্বিক আলেক্সান্ডার দুগিনের কন্যা | গাড়িবোমা বিস্ফোরণ (মস্কোর কাছে) |
এই ধারাবাহিক হামলাগুলো রাশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে মস্কোর মতো উচ্চ-নজরদারির শহরে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রুশ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে হামলার পেছনের প্রকৃত দায়িত্ব কারা তা খুঁজে বের করার জন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর এই ধরনের হামলা রাশিয়ার সামরিক কাঠামোর ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অস্থিতিশীলতার মাত্রা আরও বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিক হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাশিয়ার ভেতর ও নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো ক্রমেই গভীর হচ্ছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল সারভারভের মৃত্যু সেই সংকটকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে এবং রাশিয়ার সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।