কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: 26শে চৈত্র ১৪৩১ | ৯ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
নারী উদ্যোক্তাকে সরাসরি এবং মুঠোফোনে ‘অনৈতিক’ প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোরশেদ আহমেদকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বদলি করা হয়েছে।
গত সোমবার (৭ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শাহানা সু্লতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ বদলি ঘোষণা করা হয়। চিঠিতে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মতিউর রহমান।
তবে স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি মোরশেদ আহমেদ একটি অন্তঃসত্ত্বা নারী উদ্যোক্তাকে সরাসরি ও মুঠোফোনে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া ওই কর্মকর্তার বাসায় গোপনে একান্তে সাক্ষাৎ না করলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সকল সুবিধা থেকে ওই নারী উদ্যোক্তাকে বঞ্চিত করার হুমকি দেন এবং ঋণ পাশ না করার ভয় দেখান। এসব অভিযোগ নিয়ে ৫ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ওই নারী উদ্যোক্তা। এরপর বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে, এবং ৭ এপ্রিল মোরশেদ আহমেদের বদলির আদেশ জারি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর কুমারখালী উপজেলায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করা মোরশেদ আহমেদ এর আগে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও একাধিক নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ থানায় এক নারী মোরশেদ আহমেদের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এরপর তিনি কুমারখালীতে যোগদানের পরও নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে তার পুরনো আচরণ বজায় রেখেছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
লিখিত অভিযোগ করা নারী উদ্যোক্তা জানান, সম্প্রতি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তিনি প্রথমে সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং শহরের বাড়িতে আসার জন্য বলেন। সেখানে না গেলে মুঠোফোনে বার বার কুপ্রস্তাব ও নানা হুমকি দেন। পরে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। আজ বদলির খবর শুনে তিনি খুবই আনন্দিত।
তার ভাষ্য, ওই কর্মকর্তা যেখানে যেখানে চাকরি করেছেন, সেখানে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করেছেন। এই ধরনের কর্মকর্তার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।
দুপুরে সরেজমিন কুমারখালী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ার এবং টেবিল পড়ে রয়েছে, তবে কর্মকর্তা নেই। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
কুষ্টিয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মতিউর রহমান জানান, মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি তাদের দপ্তরে এসেছে এবং একটি নারী উদ্যোক্তার করা অভিযোগের কপি তাদের কাছে পৌঁছেছে। তবে, কোন কারণে বদলি করা হয়েছে তা জানানো হয়নি।
খবরওয়ালা/আরডি