খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কানাডাভিত্তিক বাংলা পত্রিকা ‘নতুন দেশ’-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেছেন, “নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে এক নাটকীয় পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সফরসঙ্গী বিএনপি ও এনসিপি নেতারা যখন বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হয়ে একপ্রকার ‘বলি’ হয়ে পড়লেন, তখন ড. ইউনূস নিজে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে সরে গেলেন। রাজনৈতিক শিবিরে গুঞ্জন উঠেছে, এটি ছিল ড. ইউনূসের একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’।”
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সাংবাদিক শওগাত আলী এ নিয়ে কথা বলেন।
সাংবাদিক শওগাত আলী বলেন, “নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ একটি বড় ধরনের বিক্ষোভ করতে পেরেছে। এটা তাদের জন্য একটা ‘মনোবল বাড়ানো’ মুহূর্ত ছিল। তারা মনে করছে, দীর্ঘ দিন ধরে তাদের ওপর চলমান রাজনৈতিক এবং সামাজিক নিপীড়নের একটি জবাব তারা দিতে পেরেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বিক্ষোভ থেকে তারা আসলে কী অর্জন করল? কেবল আত্মতৃপ্তি নাকি বাস্তব কোনো কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক অর্জন?”
তিনি বলেন, “প্রতিটি ঘটনার পেছনে একটি উদ্দেশ্য, একটি ‘ডিজাইন’ থাকে।
এই জায়গায় আমার মনে হয়েছে—ড. ইউনূসের একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ ছিল। তিনি অনেক আগে থেকেই এ ধরনের পরিকল্পনা করে কাজ করেন এবং এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।”
শওগাত আলী বলেন, ‘নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সময় ড. ইউনূসকে বিমানবন্দর থেকে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তার সফরসঙ্গী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এনসিপি নেতারা একটি বৈরী পরিবেশে ফেলে রাখা হয়েছিল।
ড. ইউনূস ও তার টিম যখন নিরাপদে চলে গেলেন তখন রাজনৈতিক নেতারা রাস্তায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।’
আমি ভিডিও ফুটেজে দেখেছি, মির্জা ফখরুল অনেকটা অসহায়ভাবে হেঁটে যাচ্ছেন, পেছনে ‘নারায়ে তাকবির’, ‘তাহের ভাই জিন্দাবাদ’ জাতীয় স্লোগান উঠছে, যা মূলত জামায়াতের স্লোগান। প্রশ্ন হলো—বিএনপি তখন কোথায় ছিল? স্থানীয় সূত্র বলছে, বিএনপি নেতাদের জানানো হয়েছিল ইউনূসের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে চলে গেছেন, তাই তারা ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু পরে ভিডিও দেখে তারা বুঝেছে, তাদের নেতা এক বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন।
তিনি আরো বলেন, “জামায়াত নেতারা এয়ারপোর্টে উপস্থিত থাকলেও তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি প্রতিরোধ বা পাল্টা মিছিল করেনি বরং তারা তাদের নেতাদের রিসিভ করতে গিয়েছিল।
এতে বোঝা যায়, তারা একটা ‘স্মার্ট গেম’ খেলেছে, সমর্থন দেখিয়েছে কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেনি।”
শওগাত আলী প্রশ্ন রাখেন—‘ড. ইউনূসের এই সফরে রাজনৈতিক নেতাদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া কি তাহলে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ? তাদের সামনে রেখে কি তিনি নিজের জন্য আন্তর্জাতিক সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেছেন? আক্তার হোসেন, তাসনিম জারাসহ অন্য নেতাকর্মীরা নিউইয়র্কে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। তাদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ড. ইউনূসকে স্বার্থপর আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, তিনি নিজে নিরাপদে থেকে বাকিদের ‘বলি’ করেছেন। আমি নিজেও বলেছি, নিউইর্য়ক এয়ারপোর্টে যে ড. ইউনূসকে আমরা দেখেছি সেটিই তার আসল রূপ। একজন কৌশলী এবং আত্মমুখী রাজনীতিক।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের পক্ষে এই বিক্ষোভ হয়তো একটি ‘মানসিক মুক্তি’ দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এত কিছুর পর তারা কী অর্জন করেছে? আমেরিকার মূলধারার কোনো মিডিয়াতে কি এই ঘটনাগুলো উঠে এসেছে? পশ্চিমা সমাজ কি ড. ইউনূসের ‘আসল চেহারা’ জানতে পেরেছে? যদি না পেরে থাকে, তাহলে শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ করেই বা কী লাভ? তার চেয়ে বরং একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনার মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও সমাজে ড. ইউনূস এবং তার সহযোগীদের কার্যকলাপ তুলে ধরার কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।”
খবরওয়ালা/এমএজেড