ভোলা সদর উপজেলায় কোস্ট গার্ডের একটি যৌথ অভিযানে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোররাতে পরিচালিত এই অভিযানে ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চরগাজী আদর্শগ্রাম সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে জব্দকৃত মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক চোরাচালান ও বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল।
অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন ভেলুমিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মনির হোসেন এবং মো. শহীদ সিকদার। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে গাঁজা সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে তল্লাশি করে প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের সদস্যরা জানান, মাদকটি স্থানীয় বাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম আরও জানান, দেশের উপকূলীয় এলাকায় মাদক পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী ও চরাঞ্চলকে ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের প্রবণতা রোধে কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কিছু প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান থাকলেও কিছু অসাধু চক্র গোপনে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
আটক ও জব্দের সারসংক্ষেপ
| বিষয় |
তথ্য |
| অভিযান পরিচালনার সময় |
সোমবার ভোররাত |
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা |
কোস্ট গার্ড ও পুলিশ |
| স্থান |
ভেলুমিয়া ইউনিয়ন, চরগাজী আদর্শগ্রাম সংলগ্ন এলাকা |
| আটক ব্যক্তি |
মো. মনির হোসেন, মো. শহীদ সিকদার |
| জব্দকৃত মাদক |
গাঁজা (প্রায় এক কেজি) |
| আনুমানিক মূল্য |
প্রায় ৪০ হাজার টাকা |
| পরবর্তী ব্যবস্থা |
ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর |
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদকবিরোধী কার্যক্রম শুধু আটক বা জব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় জনগণও এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোলার এই অভিযান উপকূলীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।