খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড এলাকার সচিব গেট এলাকায় নয় মাস ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পঞ্চাশোর্ধ বিধবা নারী শামসুন্নাহার ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম দিপু। অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীরা বসতভিটা দখল করতে তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
২০০৫ সালে শামসুন্নাহারের স্বামী আমিরুল ইসলাম সাড়ে ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমানে ওই জমির মূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আর এ কারণেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের লোভ জমির দিকে বাড়ছে।
মা-ছেলের অভিযোগ, বসতবাড়ির চারপাশে কাঠ, বাঁশ ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রবেশ বা বের হওয়ার রাস্তা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে মই বা গাছ বেয়ে দেয়াল টপকেই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
শামসুন্নাহার বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাস আমি নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে আছি। মই বেয়ে, গাছে বেয়ে ও দেওয়াল টপকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছি। বসতবাড়ির চারপাশে কাঠ, বাঁশ ও কাঁটাতারের বেড়া।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী নূরুল হুদা নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে। এমনকি রাতে বুলডোজার দিয়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হচ্ছে।
শামসুন্নাহারের ছেলে দিপু জানান, ‘দীর্ঘ নয় মাস ধরে আমাদের মা-ছেলের ওপর চলছে নির্যাতন-অত্যাচার। কয়েকবার মাকে মারা হয়েছে। কিন্তু মা বাবার কষ্টের টাকায় কেনা বসতভিটা ছেড়ে যাবেন না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নূরুল হুদা বলেন, ‘আমি কার নির্দেশনায় করছি এটা তাদের কাছে জানুন। আপনারা বেড়ায় টাচ করতে পারবেন না। এই জায়গায় যেতে পারবেন না। আমার বিষয়ে তাদের সব জানা আছে। আপনাদের সঙ্গে কোনো কথা নেই।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি বলেন, ‘এখানে এক পক্ষ জমি দিতে রাজি হচ্ছে না। তাই সমস্যার সমাধান করা কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ