খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে পৌষ ১৪৩২ | ১৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
হংকংয়ের সবচেয়ে বড় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ হ্যাশকি গ্রুপের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি শহরটির ডিজিটাল সম্পদকেন্দ্র হওয়ার লক্ষ্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই পদক্ষেপকে অনেকেই হংকংয়ের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন, যেখানে উদ্ভাবন ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হচ্ছে। মূল ভূখণ্ড চীনে যেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ও মাইনিং কার্যত নিষিদ্ধ, সেখানে হংকং নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর ভেতরে এই খাতকে এগিয়ে নিতে চাইছে।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হ্যাশকি গ্রুপ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু করে। এর মাধ্যমে এটি এশিয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত অন্যতম উল্লেখযোগ্য ক্রিপ্টো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। হ্যাশকি একটি পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রিত ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ পরিচালনা করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ট্রেডিং অবকাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রক সম্মতিসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সম্পদ সেবা প্রদান করে। তালিকাভুক্তির প্রথম দিনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলেও শেয়ারের দাম সামান্য কমে ২.৬৯ শতাংশ হ্রাস পায় এবং লেনদেন শেষ হয় প্রতি শেয়ার ৬.৫০ হংকং ডলারে, যা প্রায় ০.৮৪ মার্কিন ডলারের সমান।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও এই তহবিল সংগ্রহ প্রমাণ করে যে নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল সম্পদ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
হ্যাশকির তালিকাভুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিয়াও ফেং দিনটিকে কোম্পানি ও হংকংয়ের ডিজিটাল ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেমের জন্য গৌরবের দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আস্থা, স্বচ্ছতা ও আইনগত সম্মতি ছাড়া এই খাতে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য সম্ভব নয়। যদিও প্রতিষ্ঠানের অনেক উদ্যোক্তা ও শীর্ষ কর্মকর্তা মূল ভূখণ্ড চীন থেকে আসা, তবুও কোম্পানির ভিত্তি হংকংয়ে, যেখানে শক্তিশালী আইনি কাঠামো, গভীর পুঁজিবাজার এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ বড় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
হংকংয়ের ক্রিপ্টো নীতি মূল ভূখণ্ডের তুলনায় ভিন্ন। এখানে ক্রিপ্টো বিজ্ঞাপন, শিল্প সম্মেলন এবং প্রকাশ্য আলোচনা ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা ও তদারকি কাঠামো চালু করেছে, যাতে দায়িত্বশীল উদ্ভাবন সম্ভব হয়। এই কৌশলের মাধ্যমে হংকং সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের মতো অন্যান্য আর্থিক কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে চায়।
চলতি বছরে হংকং স্টেবলকয়েনের জন্য আলাদা লাইসেন্সিং কাঠামো চালু করেছে, যা প্রচলিত মুদ্রা বা পণ্যের সঙ্গে যুক্ত থেকে দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ডিজিটাল সম্পদকে মূলধারার আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্ত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বেইজিং হংকংকে উদীয়মান আর্থিক প্রযুক্তির জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগার হিসেবে দেখছে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করতে পারেন, তবুও হ্যাশকির মতো লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্ল্যাটফর্ম স্থানীয় মুদ্রাকে ডিজিটাল সম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়।
আইনি ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হ্যাশকির তালিকাভুক্তির সময়টিও অনুকূল ছিল। সাম্প্রতিক ১২ থেকে ১৮ মাসে স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক নীতি ও ইতিবাচক আইপিও পরিবেশ হংকংকে ব্লকচেইন উদ্ভাবনের জন্য বিশ্বের অন্যতম সহায়ক বাজারে পরিণত করেছে।