খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে পৌষ ১৪৩২ | ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের এবং কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের দলীয় প্রার্থী আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর তারা পৃথকভাবে নির্বাচন ভবনে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
কাজী রেহা কবির সিগমা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার আবেদন পেশ করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই তিনি নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এবং তার পক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী ও সমর্থক মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বলে জানান।
তবে আইনসম্মত এই গণসংযোগ কার্যক্রমে ভীতি সৃষ্টি ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সিগমা বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার পুলিশের একটি অংশ অযৌক্তিকভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার এক নিরপরাধ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে ভুয়া মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এতে তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নির্বাচনী প্রচারণা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. কিয়ামত আলী (৫০) সম্পর্কে সিগমা বলেন, তিনি একজন নিরীহ ও এলাকায় জনপ্রিয় ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল না। অথচ ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর দায়ের করা একটি মামলায় তাকে আসামি দেখানো হয়েছে, যেখানে তিনি এজাহারভুক্ত আসামিও নন। অষ্টগ্রাম থানার কাছাকাছি বসবাস করলেও গত এক বছরে পুলিশ কখনো তার খোঁজ নেয়নি। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিগমা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অন্যদিকে, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী এলাকায় তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না, যা তার প্রচারণাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ব্যারিস্টার ফুয়াদ কমিশনে এসে তার অভিযোগ জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সার্বিকভাবে সব প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, সব প্রার্থী নির্বাচনে বিজয়ী হবেন না; জনগণ যাকে ভোট দেবেন, তিনিই নির্বাচিত হবেন।
তিনি সব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে।