খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
কুবি প্রতিনিধি: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘আজকের এই আয়োজন দেখে ভালো লাগছে যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও আন্দোলন নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছে। এটি প্রমাণ করে যে আন্দোলনে সবার অংশগ্রহণ ছিল।’
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (কুবিসাস) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সাঈদ হাসানের সঞ্চালনায় এবং জুবায়ের রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান। এছাড়া প্রধান আলোচক ছিলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন নেত্র নিউজের সম্পাদক তাসনিম খলিল।
শফিকুল আলম বলেন, ‘একজন মানবাধিকার কর্মী প্রশ্ন তুলেছিলেন—ঢাকার বাইরে আন্দোলন কোথায়? এই ডকুমেন্টারিগুলোই তার জবাব। আমি দেখেছি, আন্দোলনে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। নব্বইয়ের আন্দোলনের দিকে তাকালে এত বেশি নারী অংশগ্রহণ দেখা যেত না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান আন্দোলন নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম অনেক ভিত্তিহীন কথা বলেছে। আমার মনে হয়, এই ডকুমেন্টারিগুলো তাদের জন্য উপযুক্ত জবাব।’
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বড় ভক্ত। আমরা এখনো এর গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো গল্প বলার দক্ষতা অর্জন করা, যা তরুণ সাংবাদিকদের জন্য বিশাল সুযোগ। আমি আপনাদের পরামর্শ দেব, কুবিসাসের মাধ্যমে একটি অনলাইন পেজ চালু করুন, যেখানে সবাই তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শেয়ার করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা মানেই শোষণের শিকার হওয়া নয়। বরং এটি সত্য উদ্ঘাটনের শক্তিশালী মাধ্যম।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কুবিসাসের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। লেজুড়বৃত্তিক সাংবাদিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরতে হবে, এমনকি আমার ভুল থাকলেও সেটিও তুলে আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাত্র ছয় মাস হলো এখানে এসেছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও এটি এখনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় গ্রেডে রয়েছে, যা দুঃখজনক। সাংবাদিকদের উচিত অনুসন্ধান করা—কেন এটি দ্বিতীয় গ্রেডে অবস্থান করছে? নতুন ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত শেষ করতে হলে সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে এবং অনিয়মগুলোর তদন্ত করা প্রয়োজন।’
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমি আপনাদের বলব, নৈতিকতা বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘কুবিসাস কেবল বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সংগঠন নয়, তারা জাতীয় বিষয়েও সোচ্চার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার দায়িত্ব তারা গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করি, কুবিসাস ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ বৃদ্ধিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
নেত্র নিউজের সম্পাদক তাসনিম খলিল বলেন, “নতুন নেতৃত্ব এমন একটি সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করছে, যখন দীর্ঘ এক যুগ ধরে বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা সংকুচিত ছিল। তবে এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাংবাদিকতার জন্য উর্বর ক্ষেত্র।”
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা নিজস্ব পত্রিকা বা ব্লগের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় হাত পাকায়। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ দেখা যায় না। আপনারা চাইলে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারেন। আপনাদের দায়িত্ব হবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষায় সোচ্চার হওয়া।’
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কমিউনিটির প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। ‘একটি টার্ম আছে—‘টাউন অ্যান্ড গাউন’। আপনারা শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধি, কিন্তু বাইরের সাধারণ জনগণের প্রতিও আপনাদের দায়িত্ব রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দিকেও নজর দিন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে তাদের কথা তুলে ধরুন,’ তিনি বলেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুবিসাসের সাবেক সভাপতি মো. শফিউল্লাহ ও মো..জাহিদুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কুমিল্লার স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
খবরওয়ালা/এমবি