আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জাল ভোট ও পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে ভুয়া ব্যালট ছাপা, কেন্দ্র দখল এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে—যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
রবিউল ইসলাম নয়নের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের পরিবেশে “ষড়যন্ত্রের গন্ধ” পাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হতে অনুসন্ধান শুরু করলে অতি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এমন কিছু তথ্য পাওয়া যায়, যা তাঁকে উদ্বিগ্ন করেছে। তাঁর দাবি, জামায়াতের নেতাকর্মীরা নকল ব্যালট ব্যবহার করে ব্যালট বাক্স ভরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, নীলক্ষেতের ছাপাখানার আদলে একই ধরনের কাগজ, ছাপা ও নকশায় ব্যালট পেপার তৈরি করা হয়েছে, যাতে সেগুলো আসল ব্যালট থেকে আলাদা করা কঠিন হয়।
নয়ন আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ তথ্য—যেমন ব্যালটের ধরন, সিরিয়াল নম্বর, প্রার্থী ও প্রতীকের নাম—জেনে নিয়ে একই রকম ব্যালট নিজেদের প্রেসে ছাপানো হয়েছে। এসব ব্যালট ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। উদাহরণ হিসেবে তিনি অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে নীলক্ষেত থেকে হুবহু ব্যালট ছাপানোর অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হিসেবে তিনি বলেন, নারী ও পুরুষ কর্মীদের দিয়ে গোপনে ব্যাপক হারে জাল ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ফজরের নামাজের পরপরই আগেই সিল মারা ব্যালট পেপার নিয়ে কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে ঢুকবেন। নারীরা বোরকার ভেতরে এবং পুরুষরা প্যান্টের পকেটে ব্যালট লুকিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে দ্রুত ব্যালট বাক্সে ফেলবেন। একজন কর্মী যদি একাধিকবার এমনভাবে ব্যালট ফেলতে পারেন, তাহলে অল্প সময়েই বিপুল সংখ্যক ভুয়া ভোট পড়বে—এমনটাই তাঁর আশঙ্কা।
নয়ন আরও বলেন, দুপুরের পর পরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও মব পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে, যাতে সাধারণ ভোটাররা ভয় পেয়ে কেন্দ্রে না আসেন। এর পাশাপাশি তিনি অতীতের কয়েকটি অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট সরিয়ে ফেলা এবং বিভিন্ন এলাকায় নারী সংগঠনের মাধ্যমে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ফোন ও মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য সংগ্রহ—এসবই একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি মনে করেন।
শেষে তিনি সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় নাগরিক, রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ভূমিকা জরুরি। সময়মতো প্রতিরোধ না গড়ে তুললে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে—এমন আশঙ্কাই তাঁর বক্তব্যের মূল সুর।
অভিযোগে উল্লিখিত পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ
| অভিযোগের ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| নকল ব্যালট ছাপা | আসল ব্যালটের মতো কাগজ, নকশা ও সিরিয়াল ব্যবহার |
| আগাম সিল মারা ব্যালট | ভোটের আগে ব্যালটে সিল দিয়ে প্রস্তুত রাখা |
| গোপনে বহন | নারী কর্মীদের বোরকা, পুরুষদের পকেটে লুকানো |
| ব্যাপক জাল ভোট | একজনের মাধ্যমে একাধিক ব্যালট বাক্সে ফেলা |
| কেন্দ্র বিশৃঙ্খলা | দুপুরের পর মব তৈরি করে ভোটার নিরুৎসাহিত করা |
| তথ্য সংগ্রহ | ভোটারদের এনআইডি ও যোগাযোগ তথ্য সংগ্রহ |
এই অভিযোগগুলো সত্য হলে তা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।