খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৭ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “নীতিগত জায়গা থেকে নির্বাচনী কার্যক্রমে নামার আগেই পদত্যাগ করা উচিত”, এবং ঠিক সেই অনুযায়ীই তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রথম প্রশ্ন ছিল—তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন? জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা আমি আগেই দিয়েছি। তবে কোন আসন থেকে করব, সেটি এখনো জানাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমি গভীরভাবে ভাবছি এবং উপযুক্ত সময়েই জানানো হবে।”
তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি কয়েকটি সম্ভাব্য আসন বিবেচনায় রাখছেন, তবে দল ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
সরকারে থেকে নির্বাচন করার বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা কিংবা সরকারের কোনো সদস্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—এমন কোনো আইন নেই। তবে নৈতিকতার জায়গা থেকে আমি মনে করি, কেউ নির্বাচনে যোগ দিলে তার আগে পদত্যাগ করাই উচিত। কেননা সরকারে থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় জড়িত হওয়া স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। এজন্যই আমি আগেভাগেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর।”
তিনি আরও বলেন, “যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাদের সবার ক্ষেত্রেই এই নীতিগত অবস্থান অনুসরণ করা উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করা জরুরি।”
সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, তিনি কোন রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচন করবেন। উত্তরে তিনি বেশ সতর্ক ছিলেন। “রাজনৈতিক মন্তব্য করার এখন সঠিক সময় নয়,”—সংক্ষেপে জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতি খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। অতএব সঠিক সময়ে এ বিষয়ে জানানো হবে।”
তবে সূত্রমতে, তার সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রয়েছে। যদিও তিনি তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি।
সচিবালয়ের ব্রিফিং শেষে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে—কোন আসন বেছে নেবেন আসিফ মাহমুদ? তিনি কি নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করছেন, নাকি কোনো প্রতিষ্ঠিত দলে যোগ দেবেন? তার নীতিগত অবস্থান এবং ভাষ্য অনেককে ভাবাচ্ছে যে তিনি দায়িত্বশীল প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
সব মিলিয়ে, আসিফ মাহমুদের মন্তব্যগুলো তার রাজনৈতিক যাত্রার নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও দল এবং আসন নিয়ে তার সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দেবে—এটা নিশ্চিত।