খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২৭ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
নির্বাচন ছাড়া দেশে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি মনে করে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যে দেশে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) রাজধানীতে সিপিডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ও অন্যান্য গবেষকরা।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সরকার একটি টাইমফ্রেম দিলেও এখন নির্দিষ্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা অধিক যুক্তিযুক্ত। এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব। বাস্তবতা বলছে, সরকার এই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হবে।’
সিপিডির হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে দেশের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা—যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য গভীর উদ্বেগজনক।
সংস্থাটির গবেষকরা বলেন, শুধু নির্বাচন নয়—ব্যাংকিং খাত, বাপেক্স, এনবিআরসহ বিভিন্ন খাতে কার্যকর সংস্কার ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। এসব খাতে ডিজিটালাইজেশন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি, এবং তার জন্য নির্বাচনের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি ব্যাংকিং খাত সংস্কার করতে পারি, এনবিআরকে আধুনিক করতে পারি, আর অবৈধ অর্থপ্রবাহ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি, তবে ফলাফল ধীরে ধীরে আসবে। কিন্তু ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিছু করা যাবে না’—এই মনোভাব অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক।’
সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, মহার্ঘ ভাতা প্রদানের নীতিগত অনুমোদনের ফলে সরকারি ব্যয় অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে আরও সুসংহত রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি।
খবরওয়ালা/আরডি