খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সিনিয়র আইনজীবী ও আলোচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার তানিয়া আমির সম্প্রতি বলেছেন, প্রবাসীদের জন্য চালু করা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি বড় ধরনের জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করছে। তার মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটিই পরিকল্পিতভাবে ম্যানিপুলেট করা হচ্ছে।
তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন একটি টক শো প্রোগ্রামে। সেখানে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন অবস্থায় রয়েছে যেখানে সরকার কেবল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নয়, বরং বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের মধ্যেই রয়েছে। এই বাস্তবতা বিএনপির কাছে একটি স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
তানিয়া আমিরের বক্তব্যের মূল অংশগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
| বিষয় | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| পোস্টাল ব্যালট | প্রবাসীদের ভোটের মাধ্যমে জালিয়াতির সম্ভাবনা উত্থাপন করছে |
| নির্বাচন স্বচ্ছতা | প্রক্রিয়া ম্যানিপুলেট হওয়ায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় |
| সরকারের অবস্থান | নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির সঙ্গে দ্বন্দ্বপূর্ণ সম্পর্ক |
| বিএনপির করণীয় | বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ না নেওয়াই যৌক্তিক |
এছাড়া, ব্যারিস্টার তানিয়া বলেন, “তারেক জিয়া নিজেই গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এটি স্পষ্ট যে, সরকারের কিছু কর্মকাণ্ড বিএনপির ভোটাধিকারে প্রভাব ফেলতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার যখন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে, তখন বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের যুক্তি কমে যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক অবকাঠামো এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ব্যারিস্টার তানিয়ার মতে, এ পরিস্থিতিতে বিএনপির উচিত নৈতিক ও কৌশলগত কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো, যাতে পরবর্তী রাজনৈতিক পর্যায়ে শক্ত অবস্থান বজায় রাখা যায়।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন যে, প্রবাসী ভোটসহ প্রতিটি ধাপের পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ব্যারিস্টার তানিয়ার মন্তব্য এই বাস্তবতাকেই দৃঢ়ভাবে সামনে এনেছে।