খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আগামী ১১ জুন। ব্রাজিল তাদের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে নতুন একটি বিবৃতি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও নেইমারের ভবিষ্যতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি, দুজনেই এখন নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা নেইমারের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ব্রাসিলিয়ার প্লানাল্টো প্রাসাদে বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুরের অনুষ্ঠানে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা, দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি ব্রাজিল শিরোপা জিতবে, এবং আনচেলত্তি একজন গম্ভীর এবং সুসংগঠিত ব্যক্তি। আমি তাকে সমর্থন করি।” এর মাধ্যমে ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় আস্থা আনচেলত্তির প্রতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে লুলা তার পরবর্তী মন্তব্যে ব্রাজিলের নির্বাচিত খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আনচেলত্তি বিশ্বাস করেন, কেবল শতভাগ ফিট খেলোয়াড়রাই দলে জায়গা পাবে। নামের ভিত্তিতে কাউকে দলে নেওয়া হবে না। যারা শারীরিকভাবে প্রস্তুত এবং নিয়মিত অনুশীলন করছে, তাদেরই নির্বাচিত করা হবে।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, জাতীয় দলের কোচ খ্যাতি বা নামের ভিত্তিতে নয়, কেবল ফিটনেস এবং পারফরম্যান্সের ওপর গুরুত্ব দেবেন।
নেইমারের জন্য এটি এক কঠিন সময়, কারণ তার শারীরিক পরিস্থিতি এবং ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সর্বশেষ, ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারের অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর, তিনি দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। এরপর, সৌদি আরবের আল হিলালে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন। সান্তোসে ফিরে এসে তিনি ২১ ম্যাচে ১৭টি শুরুর একাদশে ছিলেন এবং আট গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে নেইমারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ তার ফিটনেস নিয়ে কোচ আনচেলত্তির কঠোর মানদণ্ড রয়েছে। সম্প্রতি, ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ২-১ জয়ে দুটি গোল করে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলেন তিনি, যা আবারও আলোচনায় আসে। তবে আনচেলত্তি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, “নেইমারকে শতভাগ ফিট হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও ৯০ শতাংশ ফিট হন, তবে আমি তাকে বাদ দিয়ে শতভাগ প্রস্তুত কাউকে নিয়ে আসব।”
নেইমারের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে, কারণ ব্রাজিলের আক্রমণভাগে অনেক তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে। চেলসির এস্তেভাও এবং বোর্নমাউথের রায়ানের মতো নতুন প্রতিভারা রয়েছেন। তাদের খেলার গতি ও ফর্ম নেইমারের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, ব্রাজিলের মিডফিল্ডেও রয়েছে আরও কিছু প্রতিযোগী, যারা আনচেলত্তির নজরে আছেন।
আনচেলত্তির কঠোর মানদণ্ডের কারণে, সেলেসাওদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার জন্য নেইমারের জন্য আরও কঠিন হবে। তাকে অবশ্যই শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং গত কিছু সময়ের পারফরম্যান্সের আলোকে নির্বাচিত হতে হবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল নির্বাচন মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু তার আগে মার্চে ব্রাজিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২৬ মার্চ ফ্রান্স এবং ৩১ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচগুলো ব্রাজিলের প্রস্তুতির একটি বড় অংশ হিসেবে গণ্য হবে। এই ম্যাচগুলোতে নেইমারের পারফরম্যান্স এবং ফিটনেস পর্যালোচনার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে, যার ভিত্তিতে আনচেলত্তি চূড়ান্ত দল নির্বাচন করবেন।
নেইমারের জন্য এই সময়টা চ্যালেঞ্জিং। তার শারীরিক অবস্থা ও প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তির প্রতি লুলার আস্থা এবং নেইমারের পারফরম্যান্স তার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নের পথে একটি বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সব কিছু নির্ভর করছে তার ফিটনেস এবং পরবর্তী সময়ে কিভাবে তিনি নিজের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন তার ওপর।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেতে নেইমারকে কঠিন লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হবে। তার পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং প্রস্তুতির দিকে লক্ষ্য রেখে আনচেলত্তি সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে, তার সঙ্গে তরুণ প্রতিভাদের প্রতিযোগিতা এবং কোচের কঠোর মানদণ্ডকে সামনে রেখে, নেইমারের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বিশ্বকাপ তারিখ | ১১ জুন, ২০২৬ |
| কোচের নাম | কার্লো আনচেলত্তি |
| নেইমারের সর্বশেষ ম্যাচ | ১৭ অক্টোবর, ২০২৩ |
| নেইমারের পারফরম্যান্স | ২১ ম্যাচে ৮ গোল, ১ অ্যাসিস্ট |
| নির্বাচনের সময় | মে, ২০২৬ |
| পরবর্তী প্রীতি ম্যাচ | ২৬ মার্চ (ফ্রান্স), ৩১ মার্চ (ক্রোয়েশিয়া) |