খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৭ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: অভিযোগ নিষ্পত্তি ও স্বনিয়ন্ত্রণের বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সংলাপে দেশের গণমাধ্যমের ওপর চলমান চাপ ও হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা।
বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত সংলাপে আলোচকরা বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে দেশের গণমাধ্যম নতুন ধরনের চাপ ও নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়েছে।
দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমি ভীত, চিন্তিত। সাংবাদিকরা দৌঁড়ের ওপর আছেন। অনেক সাংবাদিক হামলার শিকার, কেউ কেউ দেশ ছেড়েছেন, কেউ চাকরি হারিয়েছেন। এখন বলা হচ্ছে সাংবাদিকতা মুক্ত—বাস্তবে পক্ষে গেলে মুক্ত, বিপক্ষে গেলেই মব ভায়োলেন্স।
তিনি আরও বলেন, কমিশনে যে ঐকমত্য দেখানো হচ্ছে, সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে একটি ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকলেও সেটি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না, যা দুঃখজনক।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, মব সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার, মালিকপক্ষ বা সম্পাদকদের বাইরেও এমন একটি শক্তি তৈরি হয়েছে, যারা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা বলেন, সংবিধান নিয়ে চলমান আলোচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ অনুপস্থিত। স্বনিয়ন্ত্রণের নামে সাংবাদিকদের অন্যান্য আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর চলা চাপ ও অবিচার নিরসনের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই—ব্যবস্থাটি যেন এমন না হয়।
জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক আসিফ বিন আলী বলেন, বর্তমানে যেটা আছে সেটা ‘অ্যাডহক ফ্রিডম’। কেউ যদি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন, তার জন্য স্বাধীনতা আছে। আর কেউ আগে ভুল করে থাকলেও এখন সাংবাদিকতা করতে চাইলেও তার জন্য কোনো সুযোগ নেই। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ জনকণ্ঠ।
তিনি অভিযোগ করেন, জনকণ্ঠ দখল হয়ে গেছে। এর পেছনের শক্তিগুলো বিগত সরকারের আমলেও ভিন্ন নামে সক্রিয় ছিল, এখন নতুন করে সক্রিয় হয়েছে।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের মালিকানা প্রসঙ্গে আসিফ বিন আলী বলেন, এ দেশে বসুন্ধরা গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে জমি দখলের ব্যবসাকে বৈধতা দেয়। আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে এখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকবে না।
খবরওয়ালা/টিএসএন