খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু—ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অগ্রগণ্য পুরোধা, আধুনিক ভারতের স্থপতি এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তিনি ছিলেন আদর্শবাদী নেতৃত্ব, মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক।
১৮৮৯ সালের ১৪ নভেম্বর এলাহাবাদের এক সম্ভ্রান্ত কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা মতিলাল নেহেরু ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত ব্যারিস্টার ও রাজনীতিবিদ। ছোটবেলা থেকেই দেশ, সমাজ ও মানবতার প্রতি অদম্য কৌতূহল এবং জ্ঞানলিপ্সা তাঁকে গড়ে তোলে এক উদারমনস্ক, বিশ্বসচেতন ব্যক্তিত্বে।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন ও লন্ডনে ব্যারিস্টারি শিক্ষার পর দেশে ফিরে তিনি জড়িয়ে পড়েন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে। মহাত্মা গান্ধীর নিকট সান্নিধ্যে এসে তিনি কেবল কংগ্রেসের শীর্ষনেতাই নন, গণআন্দোলনের এক প্রাণপুরুষে পরিণত হন। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শ—এই চার স্তম্ভে তিনি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন স্বাধীন ভারতের ভিত্তি।
পরিকল্পনাবিদ, কূটনীতিক ও আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপকার হিসেবে নেহেরু বিশ্বমঞ্চেও ছিলেন সম্মানিত এক নেতা। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Discovery of India, Glimpses of World History এবং Letters from a Father to His Daughter বিশ্বসাহিত্যে স্থায়ী আসন পেয়েছে।
নেহেরুর পরিবার ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী এবং দৌহিত্র রাজীব গান্ধী—উভয়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নেহেরুর উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যান।
২৭ মে ১৯৬৪—এই দিনে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে ভারত হারিয়েছিল আধুনিক রাষ্ট্রগঠনের অন্যতম শিল्पীকে; আর ইতিহাস হারিয়েছিল এক প্রজ্ঞাময় আন্তর্জাতিক নায়ককে।
শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করি পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুকে—
আদর্শ, মানবতা ও প্রগতির এক অবিনশ্বর আলোকবর্তিকা।