খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নেপালে টানা বিক্ষোভ ও সহিংসতার জেরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পদত্যাগপত্র ইতোমধ্যেই প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং গৃহীত হয়েছে। এ ঘটনায় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র রূপ নিল।
পদত্যাগপত্রে অলি উল্লেখ করেছেন, ‘মাননীয় প্রেসিডেন্ট, নেপালের সংবিধানের ৭৬(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই সংবিধানের ৭৭(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আজ থেকেই আমি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’
অলির পদত্যাগ ঘোষণার দিনও নেপাল উত্তাল ছিল। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ উপেক্ষা করে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করে এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনেও প্রবেশ করে অগ্নিসংযোগ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। দেশের সেনাপ্রধান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে মন্ত্রীদের সরিয়ে নিতে শুরু করে, কারণ তাদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বেড়ে চলছিল।
সহিংস বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল ৪ সেপ্টেম্বর সরকারের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে। সেদিন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে প্রথমে শান্তিপূর্ণ মিছিল শুরু হলেও তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে পার্লামেন্টের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাজধানীতে কারফিউ জারি করা হয়। তরুণ প্রজন্ম এই আন্দোলনকে ‘জেন-জি রেভল্যুশন’ নামে অভিহিত করেছে।
গত দুই দিনের সহিংসতায় অন্তত ১৯ জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকজন মন্ত্রীর আগেই পদত্যাগ করেন। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে পদ ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি।
খবরওয়ালা/এন