খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে চৈত্র ১৪৩২ | ২২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে শনিবার গভীর রাতে ভয়াবহ রেলদুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন বাসযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান দায়িত্ব পালন না করায় বাসটি অরক্ষিত ক্রসিং দিয়ে রেললাইনে উঠলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় আরও ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী আহত হন।
রেলের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান নিশ্চিত করেছেন, দুর্ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট দুই গেটম্যান—মেহেদি হাসান ও হেলাল উদ্দিন—কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি তদন্ত কমিটি (বিভাগীয় ও জোনাল) গঠন করেছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার সময় আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন সকাল ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল ১০.৩০ মিনিটে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে সরিয়ে নেওয়া হয়। ১১টার পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষীপুরগামী “মামুন স্পেশাল” পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ছিল। দুর্ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান গেট ফেলে রাখেননি, যার কারণে বাসটি রেললাইনে উঠে যায় এবং ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, আহতদের মধ্যে ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ৫ জন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জেলা প্রশাসন নিহতদের প্রতি ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে।
| ক্রমিক | ঘাতপ্রাপ্ত | বয়স / লিঙ্গ | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ১ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ২ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ৩ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ৪ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ৫ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ৬ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ৭ | মহিলা | বিভিন্ন | মৃত |
| ৮ | মহিলা | বিভিন্ন | মৃত |
| ৯ | শিশু | বিভিন্ন | মৃত |
| ১০ | শিশু | বিভিন্ন | মৃত |
| ১১ | শিশু | বিভিন্ন | মৃত |
| ১২ | শিশু | বিভিন্ন | মৃত |
| – | অন্যান্য | বিভিন্ন | আহত ১০–১৫ জন |
ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। রেললাইনের পাশে কর্মীদের থাকার কক্ষ তালাবদ্ধ এবং বাসের ভাঙা কাচ ও চাকা ছড়িয়ে আছে। স্থানীয় চা দোকানদারদের মতে, দিনে-রাতে ক্রসিংয়ে চারজন দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু দুর্ঘটনার রাতে কে দায়িত্বে ছিলেন তা নিশ্চিত নয়।
পিবিআই ও স্থানীয় তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার মূল কারণ গেটম্যানের অবহেলা। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতাল পাঠায়। দুর্ঘটনার পর এলাকার মানুষও উদ্ধার কাজে যোগ দেন।
কুমিল্লা রেলওয়ে বিভাগের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশলী জানান, ব্যস্ততম ক্রসিং হওয়ায় ২৪ ঘণ্টা রেলকর্মী দায়িত্বে থাকেন। তবে ওই রাতে ভুলবশত গেট না ফেলা হয়, যা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধরা হচ্ছে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পৃথকভাবে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তৎপরতা জানিয়েছেন।
দূর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী।