খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৮ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পে চীনের দেওয়া ঋণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চীন বারবার চিঠি দেওয়ার পরও বাড়তি খরচের অর্থ ঋণ হিসেবে ছাড়তে অনীহা দেখাচ্ছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারকে নিজস্ব তহবিল থেকে ভর্তুকি দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
চুক্তিতে মূল পরিকল্পনার বাইরে ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ৪২.৩৮ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হলেও প্রকল্পে ভ্যারিয়েশনের খাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। অথচ বরাদ্দ ছিল ৩৩৪ কোটি টাকার মতো। চীন এই বাড়তি অর্থ দিতে না চাইলে সরকারের ঘাড়েই পড়বে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকার বোঝা।
নতুন আন্ডারপাস, রেলসেতু, লেভেল ক্রসিং গেট এবং রেললাইন উঁচু করাসহ নীতিগত কিছু পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে। ঢাকার কমলাপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লাইনে নতুন সংযোজনের ফলে অর্থসংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১,৯৭২ কোটি টাকার বিল ঝুলে আছে। চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ ছাড় না করায় বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত চারবার আলোচনার পরও ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
চুক্তি অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঋণ নিষ্পত্তি না হলে প্রকল্পে জটিলতা দেখা দিতে পারে। শেষ কিস্তির ২৬০ মিলিয়নের মধ্যে ১৬০ মিলিয়ন ফেরত দিলেও বাকি ১০০ মিলিয়ন এখনও আটকে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পে ঋণ ছাড়ে চীনের অনাগ্রহ রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলনও হতে পারে। বুয়েটের অধ্যাপক শামছুল হকের মতে, জি-টু-জি প্রকল্পে চুক্তির বাইরে বিষয়গুলো রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।
৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের ৯৭.৬ শতাংশ কাজ শেষ হলেও আর্থিক অগ্রগতি ৮৯.০৪ শতাংশ। প্রকল্প ব্যয় দ্বিতীয় সংশোধনীতে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮,৬২৪ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজ শেষে আরও প্রায় ১,২২৩ কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে।
চীনের ঋণ ছাড় বন্ধ থাকায় পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সময়মতো অর্থ ছাড় না হলে সরকারকে নিজস্ব অর্থে বাকি কাজ শেষ করতে হবে। এতে প্রকল্পে আবার সংশোধনী আনতে হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
খবরওয়ালা/এমএজেড