খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হারের পর দেশটির ক্রিকেট মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কলম্বোরে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তান ৬১ রানে পরাজিত হয়েছে। ম্যাচের কোনো পর্যায়েই পাকিস্তানি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখতে পারেনি। ভারতের নির্ধারিত ১৭৫ রানের জবাবে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা টেনেটুনে ১১৪ রানই তুলতে সক্ষম হয়।
এই হারের পর সমালোচনা সবচেয়ে জোরালোভাবে এসেছে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের মুখ থেকে। সাবেক লেগ স্পিনার দানিশ কানেরিয়া সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “সত্যি বলতে, বর্জন করাটা হয়তো কম লজ্জাজনক হতো।” কানেরিয়ার এই মন্তব্য ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পাকিস্তানের বর্তমান দলকে নিয়ে উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে।
সাবেক ব্যাটার ও ধারাভাষ্যকার রমির রাজা বলছেন, “পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। ভারত গত দুই-তিন বছর ধরে একই বোলিং আক্রমণ ব্যবহার করছে, এবং পাকিস্তানিরা সবসময়ই সাধারণ মানের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে।” একই সঙ্গে সাবেক ব্যাটার বাসিত আলি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দুর্বলতা তুলে ধরেছেন এবং বাবর আজমকে চারে নামানোর সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
পাকিস্তানের দুর্বলতা শুধু দেশীয় দৃষ্টিকোণেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের নজরেও এসেছে। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন মন্তব্য করেছেন, “ভারতের মতো দক্ষ দলের বিপক্ষে পাকিস্তান চাপ নিতে পারেনি। ভারত খেলার সব বিভাগে বেশি দক্ষ এবং বড় আসরের চাপ সামলাতে মানসিকভাবে প্রস্তুত।”
ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর মতে ভারতীয় কিংবদন্তি অনিল কুম্বলে বলেছেন, “এটি কোনো সমান লড়াই ছিল না। ভারতের বোলাররা অসাধারণ খেলেছে। পিচ ব্যবহারের দক্ষতা হার্দিক পাণ্ডিয়ার কাছ থেকে দেখা গেছে। আর জসপ্রিত বুমরাহ অনন্য পর্যায়ের।”
সাবেক ভারতীয় পেসার ইরফান পাঠানও মনে করছেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে এখন আর কোনো লড়াই অবশিষ্ট নেই। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধুমাত্র মাঠের বাইরের উত্তাপের কারণে আলোচিত।”
নিচের টেবিলে পাকিস্তান ও ভারতের প্রধান পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত তুলনা দেওয়া হলো:
| বিভাগ | পাকিস্তান | ভারত |
|---|---|---|
| রান | ১১৪ (টেনেটুনে) | ১৭৫ |
| হারের ব্যবধান | ৬১ রানের | – |
| ব্যাটসম্যান হাইলাইট | বাবর আজম | হার্দিক পাণ্ডিয়া |
| বোলার হাইলাইট | – | জসপ্রিত বুমরাহ |
| মানসিক চাপ মোকাবিলা | দুর্বল | উচ্চ |
| বিশেষ মন্তব্য | বর্জন কম লজ্জাজনক | অনন্য বোলিং দক্ষতা |
এই হারের ফলে পাকিস্তানের ক্রিকেট দলকে পুনর্গঠন ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দলের নতুন পরিকল্পনা এবং ব্যাটিং ও বোলিং দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি ছাড়া পাকিস্তানের জন্য বড় আসরে সাফল্য ধরা দেবে না।