খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনা এখন চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্বও দিন দিন বেড়ে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাত অনুযায়ী, পাকিস্তান মধ্যস্থতা উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিজ রাজধানী ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এ উদ্যোগের পেছনে সৌদি আরবের ছায়া সমর্থন থাকতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক ভ্যালি নাসর বলেন, “রিয়াদের অনুমতি ছাড়া ইসলামাবাদ এমন বড় পদক্ষেপে যেতে পারে না।” যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান এখনও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবু কূটনৈতিক মহলে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা খুবই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “গত এক বছরে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কূটনৈতিক স্বার্থও দেখভাল করে। এ কারণে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভাবা অস্বাভাবিক নয়।”
পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তুরস্ক এবং মিসরও এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে। বিশেষ করে, পাকিস্তান ও তুরস্কের জন্য ইরান-সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা সরাসরি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক হুমকি নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিসরের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। কায়রো ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার সুবিধা ব্যবহার করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরাসরি আলোচনা এখন রাজনৈতিকভাবে উভয় পক্ষের জন্যই কঠিন। এই শূন্যস্থান পূরণে পাকিস্তান এগিয়ে এসেছে।
পাকিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এই পদক্ষেপকে সহজ করেছে। চলতি বছরের জুন ও অক্টোবর মাসে পাকিস্তান ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ইরান-ভারত সংঘাতের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালানোর জন্য ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। এছাড়া, গত বছরের জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মধ্যস্থতার প্রস্তাবিত স্থান | ইসলামাবাদ, পাকিস্তান |
| সম্ভাব্য সমর্থক | সৌদি আরব |
| অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশ | তুরস্ক, মিসর |
| পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক | ঘনিষ্ঠ, ইরানের কূটনৈতিক স্বার্থ দেখভাল |
| পূর্ববর্তী পদক্ষেপ | ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন, উচ্চপর্যায়ের সফর |
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসলামাবাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আস্থা, বিশেষ করে সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী স্তরের সখ্য, দেশটিকে বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে পাকিস্তান এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য মূল ভুমিকা পালন করতে পারে।
এভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গনে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার জন্য তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।