আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের রূপনগর রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পদে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা হারচরণ সিং ভুল্লারের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৫ কোটি রুপির বেশি নগদ অর্থ, স্বর্ণ, বিলাসবহুল গাড়ি, দামি ঘড়ি ও বিপুল সম্পত্তির কাগজপত্র জব্দ করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুর্নীতির অভিযোগে ভুল্লার ও তার সহযোগী কৃষ্ণ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। অভিযোগে বলা হয়, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮ লাখ রুপি ঘুষ দাবি করার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান পরিচালিত হয়, যা পরে বিশাল অঘোষিত সম্পদের সন্ধান দেয়।
ফতেহগড় সাহিব জেলার এক স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ী আকাশ বাট্টা অভিযোগ করেন, ডিআইজি ভুল্লার তাকে তার ব্যবসা সংশ্লিষ্ট একটি ভুয়া মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে প্রথমে ৮ লাখ রুপি এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে অর্থ দাবি করেন।
সিবিআইয়ের এফআইআর অনুযায়ী, ভুল্লার তার সহযোগী কৃষ্ণের মাধ্যমে ঘুষের টাকা সংগ্রহ করতেন। এক ফোনালাপে কৃষ্ণকে বলতে শোনা যায়— আগস্টের পেমেন্ট হয়নি, সেপ্টেম্বরেরটাও বাকি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর সিবিআই চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২১ এলাকায় ফাঁদ পাতে। সেখানে কৃষ্ণকে হাতেনাতে আটক করা হয়, যখন তিনি অভিযোগকারীর কাছ থেকে ভুল্লারের হয়ে ৮ লাখ রুপি নিচ্ছিলেন। পরে নিয়ন্ত্রিত ফোন কলে ভুল্লার নিজেই ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং অভিযোগকারীকে অফিসে আসতে বলেন।
এই প্রমাণের ভিত্তিতে সিবিআই দল মোহালিতে গিয়ে ভুল্লারকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর সিবিআই রূপনগর, মোহালি ও চণ্ডীগড়ে একাধিক স্থানে তল্লাশি চালায়। এ সময় উদ্ধার হয় প্রায় ৫ কোটি রুপি নগদ, ১.৫ কেজি স্বর্ণ ও গহনা, পাঞ্জাবজুড়ে অস্থাবর সম্পত্তির নথি, মার্সিডিজ ও অডি গাড়ির চাবি, ২২টি বিলাসবহুল ঘড়ি, লকারের চাবি, ৪০ লিটার বিদেশি মদ, বন্দুক, রিভলভার, পিস্তল ও এয়ারগানসহ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি।
এছাড়া অভিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী কৃষ্ণের বাসা থেকেও আরও ২১ লাখ রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়।
সিবিআই জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সম্পদের উৎস ও ঘুষের চক্র নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ে পাঞ্জাব পুলিশের ইতিহাসে অন্যতম বড় দুর্নীতির মামলা হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
খবরওয়ালা/টিএসএন