খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে মাঘ ১৪৩২ | ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় জামায়াতের এক নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হামলায় তাঁর দুই পা ভেঙে যায়, এছাড়া বাঁ হাত ও মাথাতেও গুরুতর আঘাত হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে কাঁঠালতলী দাখিল মাদ্রাসার কাছে বয়ার খুঁটি ব্রিজে।
আহত ব্যক্তি হলেন মাহফুজুর রহমান, যিনি কাঁঠালতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত আমির এবং কাঁঠালতলী দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শাখার প্রধান। মাদ্রাসার সুপার শরীফ আবদুর রহমান জানিয়েছেন, হামলায় মাহফুজুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
মাদ্রাসার সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুর রহমান দুপুর ১টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বাড়ির পথে মোটরসাইকেলযোগে রওনা হন। বয়ার খুঁটি ব্রিজে পৌঁছানোর পর তিন যুবক হঠাৎ তাঁর ওপর লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে হামলা চালান এবং তাঁকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেন। হামলাকারীরা তার দুই পায়ে বারবার আঘাত করে, ফলে পা ভেঙে যায়। কপাল ও বাঁ হাতেও আঘাত লাগে। হামলার সময় মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে মাদ্রাসার জুনিয়র মৌলভি রফিকুল ইসলাম ছিলেন।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান জানান, দুই পায়ের মারাত্মক জখমের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান) পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা প্রথম আলোকে জানান, “আমরা এই বিষয়টি শুনেছি। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আহতের নাম | মাহফুজুর রহমান |
| পদবী | কাঁঠালতলী ইউনিয়ন ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত আমির, ইবতেদায়ি শাখার প্রধান |
| হামলার স্থান | বয়ার খুঁটি ব্রিজ, কাঁঠালতলী দাখিল মাদ্রাসার কাছে, পাথরঘাটা |
| হামলার সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, বেলা ১:৩০–২:০০ টার মধ্যে |
| হামলাকারীর সংখ্যা | ৩ জন |
| আঘাতের ধরন | দুই পায় ভাঙা, বাঁ হাত ও মাথায় আঘাত |
| আহতের সঙ্গে উপস্থিত | রফিকুল ইসলাম (মাদ্রাসার জুনিয়র মৌলভি) |
| চিকিৎসা স্থান | পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রেরণ করা হয়েছে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল |
এই ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।