খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)। বুধবার (২৭ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পরীক্ষা সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।
কেসিএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমটি মঙ্গলবার (২৬ মে) পরিচালিত হয়। এতে ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি রকেট এবং এআই-নিয়ন্ত্রিত প্রিসিশন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাটি দাবি করেছে, এটি ছিল প্রথমবারের মতো এআই প্রযুক্তি সংযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক ব্যবহার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “স্পেশাল মিশন ওয়ারহেড” প্রকল্পের আওতায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্রগুলোর আঘাত হানার সক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে পৌঁছানোর কার্যকারিতা যাচাই করা। কেসিএনএ জানায়, পরীক্ষার পর কিম জং উন সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এআই-নির্ভর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে মূল্যায়ন দেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কিম জং উন বলেন, এআই-নিয়ন্ত্রিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি নিজেদের প্রচলিত অস্ত্র ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের পাশাপাশি কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। কেসিএনএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আধুনিক অস্ত্রগুলো ভবিষ্যতে দেশের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, পিয়ংইয়ং তাদের উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় মোতায়েনের পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপকে দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণের ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে জানা যায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাকে সম্মান করে এবং তাদের কৌশলগত অবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।
এই পরীক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ও রয়টার্সও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে উত্তর কোরিয়ার সামরিক প্রযুক্তিতে এআই সংযোজনের দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্বাধীন সামরিক বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত যাচাই এখনও সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়নি।