খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৭ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৪ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মুহা. আবু তাহের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন জামিনে থাকা দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দুদকের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী শাখাওয়াত উল্লাহ ভূইয়া জানান, ‘প্রস্তুতি না থাকায় আমরা যুক্তিতর্কের জন্য সময় আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত আবেদন নামঞ্জুর করায় আমরা যুক্তিতর্কে অংশ নিতে পারিনি।’
এর আগে ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন আদালত।
মামলার পটভূমি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ ২০২০ সালের ৪ আগস্ট মামলাটি দায়ের করেন। মামলা হয় দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায়।
দুদকের অনুসন্ধানে পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মোট ছয় কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য উঠে আসে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে পাপিয়া ওয়েস্টিন হোটেলের ২৫টি রুমে অবস্থান করেন। ওই সময়ে রুম-নাইট, রেস্তোরাঁ, মদ, স্পা, লন্ড্রি, মিনিবারসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকা পরিশোধ করেন তিনি, যার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। এছাড়া হোটেলে থাকা অবস্থায় তিনি ৪০ লাখ টাকার শপিং করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাসাভাড়া বাবদ ৩০ লাখ টাকা, গাড়ির ব্যবসায় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ, নরসিংদীর কেএমসি কার ওয়াশ সলিউশনে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ, বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের নামে থাকা ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৮ টাকা—এসব সম্পদেরও কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।
এছাড়া র্যাবের অভিযানে পাপিয়ার বাসা থেকে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং সুমনের নামে থাকা ২২ লাখ টাকার একটি হোন্ডা সিভিক (২০১২ মডেল) গাড়ি উদ্ধার করা হয়, যার উৎসও সন্দেহজনক।
দুদকের অনুসন্ধান শেষে উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুদক অভিযোগপত্র অনুমোদন করে।
খবরওয়ালা/এসআই