খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৮ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
না, এটি ঈদের ছুটি নয়। নয় কর্মস্থলে ফেরার তাড়া বা পেটের দায়ে ধান কাটতে যাওয়ার ব্যস্ততা। তারপরও শুক্রবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-খুলনাগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস মেইল ট্রেনে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
ইঞ্জিনের সামনে, ছাদে, বগির ভিতরে ও দরজার হাতলে—সব জায়গায় ঝুলছিলেন হাজারো মানুষ। সবাই ছুটছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায়, লালন সাঁইজির ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণোৎসবে অংশ নিতে।
ট্রেনজুড়ে ভেসে আসছিল লালনের গান:
‘মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি,
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।’
আবার কেউ কেউ গাইছিলেন—
‘দিন থাকিতে দিনের সাধন কেন করলে না,
সময় গেলে সাধন হবে না।
পুরো ট্রেন যেন এক আবেগময় মরমি পরিবেশে ভরপুর; যাত্রীরা শুধু ভক্ত নন, তারা যেন চলমান এক লালনভক্তির প্রতিচ্ছবি।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ট্রেনটি নাটোরের লালপুর উপজেলার আজিমনগর রেলস্টেশনে প্রায় ১০ মিনিটের জন্য থামে। স্টেশনে উপস্থিত সাধারণ যাত্রীরা বিস্ময়ে দেখছিলেন এই অনন্য দৃশ্য। অনেক লালনভক্ত ঠেলাঠেলিতে ট্রেনে উঠতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েন।
উপজেলার গণ্ডবিল গ্রামের লালনভক্ত মাজেদা পাগলী ও তার সহযাত্রীরা ট্রেনে উঠতে না পেরে স্টেশনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই তিনি আবেগে বলে ওঠেন, ‘মন যেখানে চায়, ছুটে চল না সেথা যাই।’ প্রতিবছর আমরা ১০ দিন আগে ছেঁউড়িয়ায় যাই, এবার উঠতে না পেরে মনটা খুব খারাপ লাগছে।’
ট্রেনের ইঞ্জিনের পাশে হাতল ধরে ঝুলছিলেন মকলেছ নামের এক ভক্ত। তিনি বলেন, প্রতিবছরই লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসবে যাই, এবারও যাচ্ছি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। ঝুলে ঝুলে গেলেও কষ্ট নেই, শুধু আখড়ায় পৌঁছাতে পারলেই শান্তি।
সাঁইজির প্রতি এমন নিবেদিত ভালোবাসা আর ভক্তির দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। এ যেন মানুষের মানুষের জন্য ছুটে চলা, আত্মার টানে আত্মার দিকে যাত্রা।
খবরওয়ালা/টিএসএন