খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৬ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যদের মাদকপাচারের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি রেলওয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল ইসলাম ও কয়েকজন অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা মাদক ব্যবসার একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, যা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত।
গত ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান সড়কে অভিযান চালিয়ে পুলিশের এসআই মিজানুর রহমানকে ৮ হাজার ইয়াবা বড়িসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একইভাবে, পদোন্নতি পরীক্ষার কথা বলে ছুটিতে গিয়ে যশোরে ১০ হাজার ইয়াবা বড়িসহ চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলার পুলিশ সদস্য মো. মহিবুর রহমানকে আটক করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এই অভিযানগুলির মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ওসি শহিদুল ইসলাম প্রায় সাত বছর ধরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ আছে, মাদক ব্যবসার টাকায় তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া গ্রামে জমি ও সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। একইভাবে, রেলওয়ে পুলিশের এসআই মো. দস্তগির হোসেনও মাদক ব্যবসার টাকা ব্যবহার করে চন্দনাইশে ডুপ্লেক্স বাড়ি ও কক্সবাজারে চার কোটি টাকার একটি আবাসিক হোটেল নির্মাণ করেছেন।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ট্রেনে ইয়াবা পাচারের জন্য একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ওসি শহিদুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে বদলি করা হয়েছে।
মাদক ব্যবসার এই জালিয়াতি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, যাদের সম্পত্তি ও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় রাখা হবে না এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে রেলস্টেশনগুলিতে মাদক প্রতিরোধের জন্য স্ক্যানার বসানো হয়েছে, তবে জনবলের অভাবে তা কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ট্রেনে মাদক পাচারের ঘটনা এখনও কমানো যায়নি।