খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে পৌষ ১৪৩২ | ১১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রিপুরার উনকোটি জেলায় পূজা ও স্থানীয় মেলার চাঁদা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চনবাড়ি প্রধান সড়কের ভৈরব থালির কাছে মোসাব্বির আলীর কাছে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করার ঘটনায় উত্তেজনা শুরু হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে বিষয়টি মারামারি এবং পরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে রূপ নেয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ৫–৬ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কয়েকটি বাড়ি, দোকান এবং কাঠের স্টল পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনায় জমা খড়ও পুড়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার পর্যন্ত অন্তত ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
ত্রিপুরা পুলিশ জানায়, Saturday রাতে ফটিকরয় থানার কুমারঘাট এলাকা এবং শিমুলতলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোবাইল ইন্টারনেট ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) মোতায়েন করা হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে হালকা লাঠিচার্জ করা হয় এবং ড্রোন ব্যবহার করে পরিস্থিতি নজরদারি করা হয়।
পুলিশ সুপার আভিনাশ রাই বলেছেন, “কয়েকজন যুবক কিছু বাড়ির সামনে আগুন ধরিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফ্ল্যাগ মার্চ চলছে এবং ১৬৩ ধারা প্রযোজ্য হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত।”
উনকোটি জেলায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| স্থান | ঘটনা | আহত ব্যক্তির সংখ্যা | ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা | গ্রেফতারকৃত সংখ্যা | নিরাপত্তা মোতায়েন |
|---|---|---|---|---|---|
| কুমারঘাট, ফটিকরয় | সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ | ৫–৬ | ৪–৫ দোকান ও বাড়ি | ৮ | TSR, CRPF |
| শিমুলতলা | ভাঙচুর, আগুন লাগানো | – | ৩–৪ দোকান ও উপাসনালয় | – | TSR, CRPF |
| সাইদারপার | কাঠবোঝাই যানবাহনে হামলা | – | – | – | TSR, CRPF |
প্রশাসন জানিয়েছে, আসন্ন ভৈরব মেলার (২৪–২৬ জানুয়ারি) আগে শান্তি বজায় রাখতে এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল এবং নজরদারি অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক তথ্য বা পোস্ট না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
ত্রিপুরার প্রশাসন এবং পুলিশ সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করছে, ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ প্রতিরোধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে উৎসবের মর্যাদা বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।