খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পেট ফাঁপা বা উদর স্ফীতি বর্তমানে হজমজনিত সবচেয়ে প্রচলিত সমস্যাগুলোর একটি। অনেকেই মনে করেন, কেবল ভারী বা অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খেলেই পেট ফেঁপে যায়। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। মানসিক চাপ, খাওয়ার ধরন, খাদ্য উপাদানের বৈশিষ্ট্য, এমনকি হরমোনের পরিবর্তনও পেট ফাঁপার জন্য দায়ী হতে পারে। কখনও খুব অল্প খাওয়ার পরও হঠাৎ পেট ফুলে যাওয়া, টান টান অনুভূতি কিংবা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, মাঝে মাঝে পেট ফাঁপা স্বাভাবিক হলেও যদি এটি নিয়মিত ঘটে, তবে দৈনন্দিন অভ্যাস, খাদ্যতালিকা ও জীবনযাপনের ধরনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। নিচে পেট ফাঁপার প্রধান কারণ ও প্রতিকার বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
মটরশুটি, ব্রকলি, বাঁধাকপি, মসুর ডালসহ বিভিন্ন সবজি ও ডালে প্রচুর আঁশ ও গাঁজনযোগ্য শর্করা থাকে। এগুলো অন্ত্রের জন্য উপকারী হলেও হঠাৎ বেশি পরিমাণে খেলে অন্ত্রে গ্যাস তৈরি হতে পারে।
প্রতিকার:
ধীরে ধীরে আঁশযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা উচিত। প্রতিদিনের পরিমাণ অল্প করে বাড়ালে অন্ত্র সহজে মানিয়ে নিতে পারে।
কিছু মানুষের দেহে ল্যাকটোজ ভাঙার উপযুক্ত উপাদান কম থাকে। ফলে দুধ, পনির বা আইসক্রিম খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়া হতে পারে।
প্রতিকার:
এক সপ্তাহ দুগ্ধজাত খাবার বন্ধ রেখে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। প্রয়োজনে বিকল্প পুষ্টিকর খাদ্য বেছে নেওয়া ভালো।
কোমল পানীয়তে অতিরিক্ত গ্যাস থাকে, যা পেটে জমে অস্বস্তি বাড়ায়। এছাড়া কৃত্রিম মিষ্টি জাতীয় কিছু উপাদান সম্পূর্ণ হজম হয় না।
প্রতিকার:
পানীয় হিসেবে বিশুদ্ধ পানি বা ভেষজ চা বেছে নেওয়া উত্তম।
অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের আগে শরীরে পানি জমা ও হজম ধীর হয়ে যাওয়ার কারণে পেট ফাঁপা বেড়ে যায়।
প্রতিকার:
এই সময় লবণ কম খাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম উপকারী হতে পারে।
মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে এবং অন্ত্রে গ্যাস সঞ্চিত হতে পারে।
প্রতিকার:
নিয়মিত ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম ও ধ্যান উপকারী।
খুব অল্প সময়ে খাবার শেষ করলে খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত বাতাস পেটে ঢুকে যায় এবং খাবার ঠিকমতো চিবানো না হলে হজম ব্যাহত হয়।
প্রতিকার:
ধীরে সুস্থে, মনোযোগ দিয়ে ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
| কারণ | কী ঘটে | করণীয় |
|---|---|---|
| অতিরিক্ত আঁশ | অন্ত্রে গ্যাস তৈরি | ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো |
| দুগ্ধ অসহিষ্ণুতা | গ্যাস ও অস্বস্তি | দুগ্ধ সাময়িক বন্ধ রাখা |
| গ্যাসযুক্ত পানীয় | পেটে গ্যাস জমা | পানি বা ভেষজ চা পান |
| হরমোন পরিবর্তন | পানি জমা ও ধীর হজম | হালকা ব্যায়াম ও বিশ্রাম |
| মানসিক চাপ | হজমে ব্যাঘাত | ধ্যান ও নিয়মিত ঘুম |
| দ্রুত খাওয়া | বাতাস প্রবেশ ও অপচয় | ধীরে চিবিয়ে খাওয়া |
সর্বোপরি, পেট ফাঁপা যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তীব্র ব্যথা, বমি, ওজন হ্রাস বা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও সুষম জীবনযাপনই এ সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।