খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ২১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: একুশে ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিনটি আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই দিনটি প্রতি বছরই ফিরে আসে, আর তার সঙ্গে ফিরে আসে একটি বিশেষ ধরনের ফ্যাশন। শুধু মাত্র পোশাকে নয়, আমাদের অন্তরে, ভাষায় এবং সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় অন্তর্নিহিত। একুশের চেতনায় বর্ণমালা খচিত পোশাক, গয়না কিংবা টিপ, সবই এখন তরুণ সমাজের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। একুশে ফেব্রুয়ারি, যা ভাষা আন্দোলনের প্রতীক, তা আজকের যুগে এসে হয়ে উঠেছে এক নিত্যদিনের ফ্যাশন অভিব্যক্তি।
২০০০ সালের পর থেকেই বর্ণমালার খোঁজ মিলেছিল ফ্যাশনের জগতে। ডিজাইনার আনিলা হক তাঁর সৃজনশীলতায় বর্ণমালাকে মূর্ত করে তুলে ধরেন পোশাকের ক্যানভাসে, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক নতুন সাড়া জাগায়। এর মাধ্যমে একুশের চেতনার প্রতিফলন নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ পেতে থাকে।
তবে, বর্ণমালার পোশাকের মূল প্রচলন শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার আগেই, ১৯৫৬ কিংবা ১৯৫৭ সালের দিকে। চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে পোশাকের উপর বর্ণমালাকে জীবন্ত করে তোলেন। তাঁর সৃষ্টির আঙিনায় শাড়িতে খোদাই করা বর্ণমালার কাজ ছিল এক অভূতপূর্ব মাইলফলক। এই শাড়ি তখন নারীদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে, বিশেষত প্রভাতফেরিতে অংশ নেওয়া তরুণী মহলকে ঘিরে। সাদামাটা সাদা শাড়িতে একটি কালো পাড়ের সঙ্গে বর্ণমালার রূপে নতুনত্ব আনা হয়েছিল। এই শাড়িগুলি তরুণীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, এবং এটি হয়ে দাঁড়ায় এক আভিজাত্যের প্রতীক, যার মূল্য ছিল সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে।
কামরুল হাসানের মেয়ে সুমনা হাসান বলছিলেন, ‘সেটা ১৯৫৬ কিংবা ৫৭ সালের কথা। আমাদের একটা দোকান ছিল, নাম রূপায়ণ। দোকানটি পরিচালনা করতেন মা মরিয়ম বেগম। মূলত সুতি পোশাকের উপর ব্লক প্রিন্টের কাজ হতো এখানে। শাড়িতে বর্ণমালা খোদাই করার কাজ সর্বপ্রথম শুরু হয় এখান থেকেই। তখন কাঠের ব্লকের মধ্যে বর্ণমালার আকার করে ছাপ দেওয়া হতো শাড়ি জুড়ে’।
এই যুগে যুগে পরিবর্তিত হওয়া ফ্যাশনের মধ্যে, বর্ণমালা যেন ভাষা আন্দোলনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার এক নিঃশব্দ সঙ্গীত। এটা শুধু পোশাক নয়, এটি একটি জীবন্ত ইতিহাস, এক চিরন্তন চেতনার প্রতীক, যা সৃজনশীলতার মাধ্যমে আমাদের শেকড়ের দিকে ফিরে তাকাতে বাধ্য করে।
আজও, সারা বছরব্যাপী তরুণ সমাজ বর্ণমালা খচিত পোশাক ও গয়না পরিধান করে, একুশের আবেগ ও চেতনাকে জীবন্ত রাখে। বর্ণমালার সাথে সম্পর্কিত এই পোশাক শুধু একটি স্টাইলের রূপ নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ভাষা, এবং আমাদের অহংকারের একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খবরওয়ালা/জেআর