খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে চৈত্র ১৪৩২ | ১০ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভিয়েতনামের আর্থিক খাত ২০২৬ সালের শুরুতে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি—একদিকে গ্রাহকদের আস্থার পুনরুদ্ধার, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার কারণে গ্রাহক ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিলসেনআইকিউ (NielsenIQ)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মানুষ অর্থনীতি সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি আশাবাদী হলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
২০২৫ সালের অস্থিরতার পর ২০২৬ সালে ভিয়েতনাম ৮.০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং প্রায় ৩.৪ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ভিত্তি অর্জন করেছে। এর ফলে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে পৌঁছেছে, যা ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে সঞ্চয়ের প্রবণতা এখনও শক্তিশালী—প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত সঞ্চয় করেন। একই সঙ্গে ঋণ গ্রহণের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভিয়েতনামে মানুষ বিনিয়োগ বা নতুন পণ্য কেনার জন্য ঋণ নিতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতা ধীরে ধীরে উত্তরাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে আগে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে রক্ষণশীল মনোভাব বেশি ছিল।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তারও এই পরিবর্তনের অন্যতম চালিকা শক্তি। গত দুই বছরে অনলাইন সঞ্চয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। ব্যাংকগুলো সহজ ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করায় গ্রাহকেরা দ্রুত এই সেবার দিকে ঝুঁকছেন।
তবে বাজারের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র। দেশে প্রায় ৫০টি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও একজন গ্রাহক গড়ে মাত্র তিনটি ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন। ফলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ‘শীর্ষ তিন’-এর মধ্যে জায়গা করে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক দশক আগে গ্রাহকেরা পরিচিত নামের ভিত্তিতে ব্যাংক নির্বাচন করতেন। কিন্তু বর্তমানে ৭১ শতাংশ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নির্ভর করে ব্যাংকের ব্র্যান্ড ইমেজ, সেবা মান এবং ভিন্নতা প্রদর্শনের ওপর। ফলে শুধু বড় অবকাঠামো বা পুঁজি থাকলেই আর গ্রাহক আকৃষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না।
নিলসেনআইকিউ-এর স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালিটিক্স ও ইনসাইটস বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার থু নগুয়েনের মতে, গ্রাহকের আস্থা অর্জন এখন আর শুধু শাখা সংখ্যা বা সম্পদের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; বরং ব্যক্তিকেন্দ্রিক সেবা প্রদানের ওপর নির্ভরশীল। গ্রাহকেরা এখন এমন সেবা চান যা তাদের ব্যক্তিগত চাহিদা ও পছন্দকে গুরুত্ব দেয়।
বীমা ও বিনিয়োগ খাতের সাম্প্রতিক তথ্যও একই বার্তা দেয়—উন্নত গ্রাহকসেবা সরাসরি মুনাফা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। তাই বিপণন, পণ্য উন্নয়ন থেকে শুরু করে গ্রাহক যোগাযোগ—প্রতিটি স্তরেই আস্থা তৈরির কৌশল গ্রহণ করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
নিম্নে ভিয়েতনামের আর্থিক খাতের প্রধান প্রবণতাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| সূচক | বর্তমান অবস্থা | পরিবর্তনের ধারা |
|---|---|---|
| সঞ্চয় প্রবণতা | ~৮০% মানুষ সঞ্চয় করে | স্থিতিশীল |
| ঋণ গ্রহণের মানসিকতা | বাড়ছে | উত্তরাঞ্চলেও বিস্তার |
| অনলাইন সঞ্চয় | গত ২ বছরে দ্বিগুণ | দ্রুত বৃদ্ধি |
| ব্যাংক সংখ্যা | ~৫০টি | উচ্চ প্রতিযোগিতা |
| গ্রাহকের ব্যাংক ব্যবহার | গড়ে ৩টি | সীমিত নির্বাচন |
| সিদ্ধান্তের ভিত্তি | ৭১% ব্র্যান্ড ইমেজ | আগের তুলনায় বেশি প্রভাব |
সব মিলিয়ে, ভিয়েতনামের আর্থিক খাত এখন এক পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গ্রাহকদের আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও বাজারে টিকে থাকতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহককেন্দ্রিক কৌশল, প্রযুক্তি-নির্ভর সেবা এবং আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায়, প্রতিযোগিতার এই ভিড়ে গ্রাহক হারানোর ঝুঁকি আরও বাড়বে।