খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২১ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রশিক্ষণের সব ধাপ শেষ করে প্রথমবারের মতো একা প্রশিক্ষণ বিমান চালানোর কথা ছিল তৌকির ইসলাম-এর। আজ সোমবার সকাল থেকে রাজশাহীর উপশহরের বাসায় খুশির আমেজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা ছিলেন আনন্দিত ও গর্বিত। কিন্তু দুপুর পেরোতেই সেই বাড়িতে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। ঢাকার উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরে থেমে যায় সব উচ্ছ্বাস। কিছুক্ষণ পরপর কান্নার রোল ভেসে আসতে থাকে উপশহরের সেই বাসা থেকে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আজ দুপুরে রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে বৈমানিকসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক।
নিহত বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামের ডাকনাম ছিল ‘সাগর’। রাজশাহী নগরের উপশহর ৩ নম্বর সেক্টরের আশ্রয় ভবন নামে একটি বাসায় পরিবারসহ থাকতেন তিনি। বাবার নাম তহুরুল ইসলাম, পেশায় আমদানি-রপ্তানির ব্যবসায়ী। মা সালেহা খাতুন, বোন সৃষ্টি ও ভগ্নিপতি থাকতেন তাঁর সঙ্গে। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট এলাকায়।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা জানতেন না যে তৌকির ইসলাম মারা গেছেন। সে সময় জানতেন, তৌকির ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন।
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন তৌকিরকে দেখতে পরিবারের সদস্যরা বিমানযোগে ঢাকায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তখন বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তৌকির ইসলামের বাবা, মা, বোন ও ভগ্নিপতিকে বাড়ি থেকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁরা বিমানবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে ঢাকায় রওনা হন।
তৌকির ইসলামের মৃত্যুর খবরের পর রাজশাহী নগরের উপশহর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ ভিড় করছেন। সবাই স্বজনদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখনো বাসায় তৌকির ইসলামের নানা, নানি ও খালা রয়েছেন। কিছুক্ষণ পরপর কান্নার রোল ভেতর থেকে ভেসে আসছে। মামা মোতাকাব্বির বাইরে দাঁড়িয়ে কৌতূহলী মানুষ ও সাংবাদিকদের পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করছেন।
মোতাকাব্বির বলেন, তৌকির ইসলাম রাজশাহীর ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। পরে পাবনা ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন। ২০১৭ সালে তিনি চাকরিতে যোগ দেন। এক বছর আগে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন।
মোতাকাব্বির আরও বলেন, তৌকিরের মা–বাবা ও বোন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতেন না। পরিবারের সদস্যরা জানতেন, সাগর জীবিত এবং চিকিৎসাধীন।
আইএসপিআর বলেছে, ‘দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম বিমানটিকে ঘনবসতি এলাকা থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিমানটি ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের দোতলা একটি ভবনে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে।’
খবরওয়ালা/এন