খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে বৈপ্লবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম তিন দিনে দেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৫১.৩৬ কোটি টাকা)। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ৪ জানুয়ারি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় ৩৭.১ শতাংশ বৃদ্ধি, যা দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করছে।
প্রথম তিন দিনের রেমিট্যান্সের তুলনামূলক তথ্য নিম্নরূপ:
| সময়কাল | রেমিট্যান্স (USD) | রেমিট্যান্স (BDT, কোটি) | বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| ১–৩ জানুয়ারি ২০২৫ | ২.১০ বিলিয়ন | ২৫৬.২০ | – |
| ১–৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ২.৮৮ বিলিয়ন | ৩৫১.৩৬ | ৩৭.১% |
এছাড়া, ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দেশে প্রাপ্ত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৬.৫৫৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২,০১৮.০১ কোটি টাকা), যা গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত ১৩.৯৮৭ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১,৭০৫.৯১ কোটি টাকা) তুলনায় ২৫.৪ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
| সময়কাল | রেমিট্যান্স (USD) | রেমিট্যান্স (BDT, কোটি) | বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| ১ জুলাই ২০২৪–৩ জানুয়ারি ২০২৫ | ১৩.৯৮৭ বিলিয়ন | ১,৭০৫.৯১ | – |
| ১ জুলাই ২০২৫–৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৬.৫৫৩ বিলিয়ন | ২,০১৮.০১ | ২৫.৪% |
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কর্মরত প্রবাসীদের ধারাবাহিক রেমিট্যান্স পাঠানো এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ। পরিবার ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জন্য প্রবাসীরা বাড়তি অর্থ প্রেরণ করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, প্রবাসী আয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বৃদ্ধিতে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রবাসীদের জন্য আর্থিক সচেতনতা কর্মসূচি চালানো এবং নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেমিট্যান্স চ্যানেল সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। রেমিট্যান্স শুধুমাত্র গৃহস্থালির উন্নয়নের জন্য নয়, দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।