খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রশাসনের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে যুগ্মসচিব পর্যায়ে ল্যাটারাল এন্ট্রি বা পার্শ্ব নিয়োগ দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। এ বিষয়ে তিন সচিব ও একজন অতিরিক্ত সচিবের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করেছে এবং তারা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসনের তরুণ কর্মকর্তাদের মধ্যে, তবে এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন যুগ্মসচিব ও তার ঊর্ধ্বতন পদে সরাসরি নিয়োগ চালুর সুপারিশ করেছে।
তবে কত শতাংশ পদ এভাবে পূরণ করা হবে প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।
ল্যাটারাল এন্ট্রি বা সরাসরি নিয়োগ বলতে বোঝায়, প্রচলিত প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে থেকে পেশাদারদের নিয়োগ দেওয়া। যেমন: বেসরকারি খাত, শিক্ষাঙ্গন, সশস্ত্র বাহিনী, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য বিশেষায়িত ক্ষেত্র থেকে পরীক্ষিত দক্ষ ব্যক্তিদের এমন নিয়োগ দেওয়া হয়, যারা প্রচলিত নিয়োগ ও পদোন্নতির ধাপ অতিক্রম না করেও সরাসরি যোগ দিতে পারেন।
বিষয়টি নিয়ে কাজ করা কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ। এতে আরও রয়েছেন অর্থ সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব।
সালেহ আহমেদ বলেন, ‘আমরা একাধিক বৈঠক করেছি। এখন প্রতিবেদনের খসড়া থেকে চূড়ান্ত করার কাজ হচ্ছে। শিগগির জমা দিয়ে দিব।’
বর্তমানে প্রশাসনে এক হাজারের বেশি যুগ্মসচিব রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, সরকার যদি ১০ শতাংশ ল্যাটারাল এন্ট্রিও অনুমোদন করে, তাহলে ১০০ জনের বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
কমিটির কাজ সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ল্যাটারাল নিয়োগের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে দেখা গেছে, সেসব দেশে এ ধরনের নিয়োগকে সবাই সাদরে গ্রহণ করেনি।
একটি সূত্র জানায়, ‘আমরা প্রশাসনে ল্যাটারাল নিয়োগের সুফল ও কুফল তুলে ধরব, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের।’
অন্য এক সূত্র বলেন, ‘ল্যাটারাল নিয়োগ প্রশাসনের চলমান সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। তারপরও সরকার যেহেতু চেয়েছে, আমরা প্রতিবেদন প্রস্তুত করছি।’
তিনি আরও বলেন, দেশের শীর্ষ মেধাবীরা প্রশাসনে যোগ দেওয়ার পর কেন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন বা প্রয়োজনের সময় তাদের সক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থ হন—এ বিষয়টিও বোঝা জরুরি।
কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুগ্ম বা উপসচিব পর্যায়ে হঠাৎ নিয়োগ দিলে একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।
পদোন্নতির প্রত্যাশায় থাকা কর্মকর্তারাও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। ল্যাটারাল নিয়োগের ফলে জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ কমে যেতে পারে। এতে করে প্রশাসনে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে সঙ্গে কথা বলা শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, যদি যোগ্য কর্মকর্তাদের মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে বর্তমান জনবল দিয়েই প্রত্যাশিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।
খবরওয়ালা/এমএজেড