খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি প্রশিক্ষণে তিন দিনের সেশন চার দিন দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির মাধ্যমে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংস্থাটির মহাপরিচালক প্রশিক্ষণের কোনো সেশন না নিলেও তার নাম দেখিয়ে বিল তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শাখার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির সঙ্গে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ‘ঘুষ’ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা করার চেষ্টা করার অভিযোগও এসেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ‘অভিযোগ প্রতিকার’, ‘ইন হাউজ’, ‘তথ্য অধিকার’, ‘প্রকল্প ব্যবস্থাপনা’, ‘ডি-নথি’, ‘এআই’, ‘লাইব্রেরি সায়েন্স’, ‘ই-জিপি’সহ ১২–১৩টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। মাউশির দুটি অডিটোরিয়ামে মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রশিক্ষক হিসেবে একাধিক সেশন নেন। প্রশিক্ষণে দেশের সরকারি সংস্থার প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। সরকার এই প্রশিক্ষণগুলো সম্পাদনের জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল।
প্রশিক্ষণের বিল-ভাউচারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একদিনে তিনটি সেশন নেওয়ার নিয়ম থাকলেও কিছু ভাউচারে পাঁচটি পর্যন্ত সেশন দেখানো হয়েছে। অনেক প্রশিক্ষক দুই দিন প্রশিক্ষণ দিলেও তিন দিনে ৩–৪টি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পাঁচটি সেশন দেখানো হয়েছে। এভাবে অতিরিক্ত সেশন দেখিয়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর সাঈদুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক ড. জাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে।
বিশেষ করে ‘ই-জিপি’ প্রশিক্ষণের চতুর্থ ও পঞ্চম ব্যাচে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের উপ-পরিচালক আবু সাঈদ মজুমদা। তিন দিনের প্রশিক্ষণ চালালেও চার দিনের বিল-ভাউচার তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশিক্ষণে টানা পাঁচটি সেশন পরিচালনা করা সম্ভব নয়, কারণ মধ্যাহ্নভোজ, নামাজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজও রয়েছে।
প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান কোনো প্রশিক্ষণ দেননি। চতুর্থ ব্যাচের উদ্বোধনকালে তিনি পরামর্শমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তবে পঞ্চম ব্যাচে উপস্থিত ছিলেন না। তবু তার নাম দেখিয়ে ভুয়া বিল করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষণের নামে সরকারের অর্থ লোপাট করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তার নামে দিনে পাঁচটি সেশন দেখানো হলেও বাস্তবে এটি সম্ভব নয়। এসব ভুয়া বিল-ভাউচার প্রফেসর সাঈদুর রহমানের কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে পরিচালক ও সহকারী পরিচালক কোন মন্তব্য করেননি।
অভিযোগ আছে, মাউশির পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও ড. নীহার পারভীন ২১ আগস্টে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের অডিটরদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভুয়া বিল ‘না দেখার’ সমঝোতা করেছেন। পরে ২৪–২৭ আগস্ট অডিট কার্যক্রম চালানো হলেও পরিচালক দেশের বাইরে থাকায় অডিট অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
অডিটের প্রধান তোফাজ্জল হোসেন এই বৈঠক ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে মাউশির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি নিজেই দেখেছেন।
খবরওয়ালা/এন